সংবাদ শিরোনাম:




দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ প্যারাসুটার শহীদ কর্নেল এমদাদ এর পরিবার আজও পায়নি বিচার

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 05:44:18 pm, Wednesday, 25 February 2026
  • 45 সংবাদটি দেখা হয়েছে




পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥ বিডিআর বিদ্রোহে নিহত পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের শীর্ষা গ্রামের কৃতি সন্তান কর্নেল কাজী এমদাদুল হকের হত্যার ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এত বছরেও তার পরিবার ন্যায়বিচার পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করে না।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে জাতি হারায় ৫৭ জন মেধাবী ও চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে। তাঁদেরই একজন ছিলেন তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এমদাদুল হক। বিদ্রোহের দিন সকালে দরবার চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু বিদ্রোহীদের নির্মম হামলায় প্রাণ হারান এই দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা। পরে গণকবর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কর্নেল এমদাদুল হক সামরিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি একজন দক্ষ অফিসার হওয়ার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। জওয়ানদের কাছে তার জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। বাহিনীর শৃঙ্খলা ও আধুনিকায়নে তার ভূমিকা প্রশংসিত ছিল।

তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক। প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়ভাবে তাকে স্মরণ করে দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ করা হয়। এবারও আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনা করেছেন।

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় আদালত বহু আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও নিহত পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ বিচার কার্যকর হওয়া এখনো বাকি। দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার যে দৃষ্টান্ত কর্নেল এমদাদ রেখে গেছেন, তা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী-দেবর আটক

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ প্যারাসুটার শহীদ কর্নেল এমদাদ এর পরিবার আজও পায়নি বিচার

প্রকাশের সময় : 05:44:18 pm, Wednesday, 25 February 2026

পিরোজপুর প্রতিনিধি ॥ বিডিআর বিদ্রোহে নিহত পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের শীর্ষা গ্রামের কৃতি সন্তান কর্নেল কাজী এমদাদুল হকের হত্যার ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এত বছরেও তার পরিবার ন্যায়বিচার পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করে না।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে জাতি হারায় ৫৭ জন মেধাবী ও চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে। তাঁদেরই একজন ছিলেন তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এমদাদুল হক। বিদ্রোহের দিন সকালে দরবার চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু বিদ্রোহীদের নির্মম হামলায় প্রাণ হারান এই দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা। পরে গণকবর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কর্নেল এমদাদুল হক সামরিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি একজন দক্ষ অফিসার হওয়ার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। জওয়ানদের কাছে তার জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। বাহিনীর শৃঙ্খলা ও আধুনিকায়নে তার ভূমিকা প্রশংসিত ছিল।

তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক। প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়ভাবে তাকে স্মরণ করে দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ করা হয়। এবারও আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনা করেছেন।

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় আদালত বহু আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও নিহত পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ বিচার কার্যকর হওয়া এখনো বাকি। দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার যে দৃষ্টান্ত কর্নেল এমদাদ রেখে গেছেন, তা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।