মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর—এই ১১ মাসে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর হত্যা, পুশইন, গুলি, অপহরণ, মাইন বিস্ফোরণ ও নির্যাতনের চরম পরিস্থিতি উঠে এসেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রতিবেদনে। “বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি জানুয়ারি–নভেম্বর ২০২৫” শীর্ষক প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে ২৪ জন বাংলাদেশি নিহত, ৩৮ জন আহত ও ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসএফ কমপক্ষে ৩৩৯৯ বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক দেশে পুশইন করেছে। সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি তরুণ নিহত এবং দুইজন আহত হওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় নাগরিকদের হাতে এক বাংলাদেশি যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সীমান্তবর্তী এলাকায় লাশ উদ্ধারের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে—চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় নাজিমুদ্দিনের এবং কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে কাজী ছবিরের মরদেহ পাওয়া যায়। গত নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় জলসীমার কাছে ১০৮ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় কোস্টগার্ড।
মিয়ানমার সীমান্তেও ভয়াবহ পরিস্থিতি। আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক আনসার সদস্যসহ ১২ জন বাংলাদেশি আহত এবং ১ জন নিহত হয়েছেন। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ১৯টি ট্রলারসহ ১৬৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে সংগঠনটি। জানুয়ারিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া মর্টারশেল বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
১১ অক্টোবর নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি সীমান্তে টহলরত অবস্থায় মাইন বিস্ফোরণে বিজিবি নায়েক আক্তার হোসেন গুরুতর আহত হন; পরে ৩১ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া রাখাইন থেকে আসা গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে ছেনুয়ারা বেগম (৩৫) গুরুতর আহত হন।
প্রতিবেদনটিতে নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার ভয়াবহ চিত্রও উঠে এসেছে—১১ মাসে ১৯০৯ নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হন। ধর্ষণের শিকার ৭৮৯ জনের মধ্যে ৪৫৫ জনই শিশু। গণধর্ষণের ঘটনা ১৭৪টি এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত ৩৫২ নারী এবং শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে কমপক্ষে ১৩০১ শিশু—যাদের ২৬৩ জন প্রাণ হারিয়েছে।
এইচআরএসএস বলছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে সীমান্ত, পরিবার, সমাজ—সব ক্ষেত্রেই মানবাধিকার সুরক্ষা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
Leave a Reply