শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গত ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিলে এর পাঁচ দিনের মাথায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে নোট ভারবাল পাঠিয়েছে। এতে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। অভিযোগ—গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দিয়ে তারা প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী।
নোট ভারবালে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে থাকা ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে এ অনুরোধ মানতেই হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দেয়—মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া ‘অমিত্রসুলভ আচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং নিয়মিত বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার দিয়ে আসছেন। গত এক বছরে পাঠানো একাধিক অনুরোধে ভারত কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি। প্রথম নোট ভারবালে শুধু গ্রহণ নিশ্চিত করেছিল, দ্বিতীয়টিতে মোটেও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আইসিটির রায়ের পর ভারত শুধু বলেছে—তারা ‘রায় লক্ষ্য করেছে’ এবং বাংলাদেশে শান্তি-গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবে; তবে প্রত্যর্পণ নিয়ে একেবারেই কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। ভারতের গবেষক স্মৃতি এস. পট্টনায়ক বলেন, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সীমিত ম্যান্ডেট’ নিয়ে চলছে, তাই দিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা, ১৯৭৫ সালের পর আশ্রয় প্রদান এবং তার শাসনামলে ভারতের নিরাপত্তা সহযোগিতা—এসব কারণে তিনি দিল্লির কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ‘বিশ্বস্ত মিত্র’।
এ ছাড়া ভারত চাইলে প্রত্যর্পণ চুক্তির ‘রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ’ ধারা দেখিয়ে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। যেহেতু হত্যার অভিযোগে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ কঠিন, ভারত বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা প্রশ্নেও যুক্তি তুলতে পারে। এমনকি সম্মতি দিলেও ভারতের আদালতে বিস্তারিত শুনানি হবে, যেখানে শেখ হাসিনা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশে ভারতের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ বড় হওয়ায় দিল্লি বর্তমানে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ভারত কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবে না। বরং “ধীরে, নীরবে” কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখতে চাইবে। তবে নির্বাচনী প্রচারণা ঘনিয়ে এলে ভারতবিরোধী বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে।
লেখক: দ্য ডিপ্লোম্যাটের দক্ষিণ এশিয়া সম্পাদক
Leave a Reply