কুয়াকাটার নব নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় |

রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ১০:১২ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.voiceofbarishal@gmail.com অথবা hmhalelbsl@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




কুয়াকাটার নব নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

কুয়াকাটার নব নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

কুয়াকাটার নব নির্বাচিত মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়




তানজিল জামান জয়,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥ কুয়াকাটায় রাজনৈতিক দলছুট হয়ে স্বতন্ত্র মোড়কে নির্বাচিত মেয়র মো: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার মেয়র হিসেবে শপথ না নিতেই তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, লুটপাট ও চাঁদাবাজির মদদদাতা, গডফাদার এর ভূমিকায় অবতীর্ন হওয়ার এন্তার অভিযোগ উঠেছে।

 

ভূমি দস্যুতায় আলোচিত জাপা (এ) নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের ঘনিষ্ঠজন খ্যাত আনোয়ার কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের ক’নেতার সাথে দেখা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেই ছবি অনুসারীদের দিয়ে পোষ্ট দিয়ে অদৃশ্য শক্তির ইন্ধনে ক্রমশ: বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ।

 

জানা যায়, ২৮ ডিসেম্বর’২০১৯ অনুষ্ঠিত কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনের জের ধরে রবিবার (১০জানুয়ারী) রাতে জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুই লাখ টাকা চাঁদার দাবীতে পৌর যুবলীগের সদস্য রফিক ফরাজীকে মারধর ও প্রান নাশের হুমকী দেয় মেয়রের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা।

 

এসময় রফিকের সাথে থাকা ১৭ হাজার টাকা এবং একটি স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। এর আগে নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদার’র উপস্থিতিতেই হোসেন পাড়া এলাকার মো. রফিক ও হালিমের নেতৃত্বে ৭-৮জনের একদল সন্ত্রাসী তাকে মাধরধর ও জীবন নাশের হুমকী দেয় বলে রফিকের অভিযোগ। ছাত্রলীগ নেতা নুরুজ্জামান ও আব্বাসী হত্যা মামলার আসামীরা এ চাঁদা দাবী এবং মারধরে অংশ নেয়, যারা সকলেই বিএনপি নেতা-কর্মী।

 

প্রত্যক্ষদর্র্শী আব্দুর রশিদ সরকার জানান, ’রফিক মনিরের ফলের দোকানের সামনে অবস্থান করছিল। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী যুবলীগ সদস্য রফিককে অতর্কিত ভাবে মারধর করে। মারধরে অংশ নেয়া এরা সকলেই নবনির্বাচিত পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের আত্মীয় স্বজন।’

 

আব্দুর রশিদ আরও বলেন, ’এসময় মেয়র আনোয়ার হাওলাদার পুলিশ বক্সে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, মেয়র নির্বাচিত হবার পর দ্বায়িত্বভার গ্রহন করার আগেই তার লোকজনের এমন কর্মকান্ড আমাদের হতবাক করেছে। এসময় তিনি সহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন দাবী করেন।

 

পৌর যুবলীগ সদস্য রফিক ফরাজী বলেন, ’কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনের পর হোসেন পাড়া এলাকার রফিক, হালিম, মতিউর, মনির, আনোয়ার, বায়েজিদসহ নবনির্বাচিত মেয়রের স্বজনরা তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। অন্যথায় কুয়াকাটা ছেড়ে চলে যাবার হুমকী প্রদান করে।

 

রবিবার রাতে স্বদেশ প্রত্যাবর্তণ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে চৌ-রাস্তা মোড়ের মনিরের ফলের দোকানের সামনে আসলে অতর্কিত ভাবে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে এলো পাথারী ভাবে কিল ঘুষি দিতে থাকে ওই সন্ত্রাসীরা। রফিক দাবী করেন নবনির্বাচিত মেয়রের নির্দেশেই তার উপর এমন হামলা করা হয়। ফল বিক্রেতা মনির অভিযোগ করেন, মারধরের ঘটনার স্বাক্ষী না হতে তাকেও হুমকী দেয়া হয়েছে।

 

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ছালাম গাজী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর তার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে হাঁস মুরগী সহ তার ঘরের জিনিজপত্র লুট ও ভাংচুর করেছে নবনির্বাচিত মেয়রের লোকজন।

 

কুয়াকাটা পৌর যুবলীগের আহবায়ক ইসাহাক শেখ জানান, নৌকার সমর্থক জাকির হোসেন, আবু হানিফ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ছালাম গাজী, মোঃ মোশাররফ, পৌর যুবলীগ নেতা নুরুজ্জামান সহ একাধিক নেতা-কর্মীকে মারধর ও হুমকী দেয়া হচ্ছে। তিনি আর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও মারধর করা হচ্ছে।

 

যুবলীগের আহবায়ক অভিযোগ করেন, হাইব্রীড ও সুবিধাভোগী কতিপয় নেতা নবনির্বাচিত মেয়রের ছত্রছায়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিদের উপর চড়াও হচ্ছে। এলাকা ছাড়ার হুমকী দিচ্ছে।

 

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদ্য পরাজিত মেয়র আঃ বারেক মোল্লা বলেন, পৌর নির্বাচনের জের ধরে আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর ও নানা ভাবে হুমকী দেয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, হাইব্রীড ও দলছুট কতিপয় সূবিধাভোগী সন্ত্রাসী নবনির্বাচিত মেয়রের ইন্ধনে এসব করছে। এবিষয়ে তিনি পটুয়াখালী পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

 

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত মেয়র মো: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ’রবিবার রাতে জিরো পয়েন্টে পুলিশ বক্সে তিনি সহ বিএনপি নেতা ব্যবসায়ী শাহজাহান আকন মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামানের সাথে কথা বলছিলেন। এসময় পুলিশ বক্সের বাহিরে রফিক তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিল। ওসি নিজেই এর প্রত্যক্ষদর্শী।’ মেয়র আরও বলেন, ’তার কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নেই। তার কোন লোকে কাউকে মারধর কিংবা চাঁদা দাবী করেনি।

 

মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ’রাতে তিনি পুলিশ বক্সে অবস্থান করছিলেন।

 

এসময় হৈ চৈ ও লোকজনের জটলা দেখতে পান। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতে জড়ো হওয়া লোকজন যার যার মত চলে যায়। মারধর কিংবা চাঁদা দাবীর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।’

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares