সিজারের সময়... |

রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.voiceofbarishal@gmail.com অথবা hmhalelbsl@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩
সংবাদ শিরোনাম:
পটুয়াখালীতে টাকা না পেয়ে স্বর্ণের দোকানে যা ঘটালেন আ’লীগ নেতা ! রাজাপুরে অসহায় রহিমার মুখে হাসি ফোটালেন ছবির ভোলার দৌলতখানে ঢাকাগামী লঞ্চের ধাক্কায় নারী যাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন বাড়তি চমক দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যাকলিন জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে যুবককে হত্যা, রক্তমাখা কুড়াল উদ্ধার শেখ হাসিনা উন্নয়নবান্ধব সরকার প্রধান:নাজিরপুরে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বরিশাল নগরীতে পারভেজ আকন বিপ্লবের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত লালমোহনে জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত বরিশাল নগরীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশালে মোবাইল কিনে না দেয়ায় স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা




সিজারের সময়…

সিজারের সময়…

সিজারের সময়...




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ প্রসূতির সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের ভুঁড়ি বের করে ফেলা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রসূতি বেঁচে গেলেও সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক একদিন পর মারা গেছে।

 

 

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অনভিজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে সিজার করার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে রোগীর লোকজনের অভিযোগ।

 

 

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার মাজু গ্রামের সাগর আলীর স্ত্রী রুমা খাতুনের প্রসববেদনা উঠলে গত শুক্রবার তাকে আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। দুপুরে প্রসূতির সিজার করা হয়।

 

 

রুমা খাতুনের স্বামী সাগর আলী বলেন, সিজার অপারেশন করার সময় নবজাতকের পেট কেটে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। ওই অবস্থায় আমার সন্তানকে না দেখিয়ে গোপন কক্ষে ৩ ঘণ্টা রেখে দেয়া হয়। এরপর তার মায়ের কাছে দেয়া হয়।

 

 

‘ভূমিষ্ঠের পর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসার কারণে আমার সন্তানের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। রাতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়। আমার সন্তানকে কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে আমার সন্তানকে বাড়িতে ফেরত নিয়ে আসলে শনিবার সন্ধ্যার দিকে মৃত হয়।’

 

 

তিনি আরও জানান, আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারের মালিক নাজমুল হক নিজেই অপারেশন করেছিলেন। তবে শর্ত অনুযায়ী একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনকে দিয়ে সিজার করানোর কথা ছিলো। তারা এটা করলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না।

 

 

এ ব্যাপারে ইউনাইটেড ক্লিনিকের মালিক উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার নাজমুল হক বলেন, প্রসূতির অপারেশন করেছেন ডা. বিপাশা। জন্মের সময় ত্রুটির কারণে শিশুর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। এটা ডাক্তারের ত্রুটি নয়। এখানে কারও কিছু করার ছিলো না।

 

 

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এসএম মারুফ হাসান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি এই মাত্র শুনলাম। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এদিকে একাধিক অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ মার্চ অপারেশনের পর প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গার তৎকালীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক তন্ময়ের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত টিম ওই ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।

 

 

এর দুইদিন আগে ৫ মার্চ কুষ্টিয়ার মিরপুরের মালিহাদ ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের প্রসববেদনা দেখা দিলে তাকে আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিক মালিক নাজমুল ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে রাত ৮টার দিকে অপারেশন করার পর একটি সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু প্রসূতির প্রেসার বেড়ে গেলে তা কমানোর জন্য ইনজেকশন পুশ করা হলে রোগী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। কুষ্টিয়ায় নেয়ার পর প্রসূতি ফাতেমাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

 

 

তবে সেসময় রোগীর স্বজনরা বলেন, ক্লিনিকে ফাতেমার মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয় ক্লিনিকের লোকজন। এ ঘটনায় তারা লাশ নিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিচার দাবি করেন।

 

 

ঘটনাটি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল হক তন্ময়কে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ওই তদন্ত টিম ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন অনিয়ম খুঁজে পায়। পরে তা সাময়িক বন্ধ করা হয়।

 

 

২০১৮ সালের ১৯ জুলাই আলমডাঙ্গার ছোটপুটিমারি গ্রামের তানজেদ আলীর মেয়ে রোজিনার অপারেশন করেন ডা. বিডি দাস পিকলু। অপারেশনের তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলে ২য় দফায় আবারও অপারেশন করা হয়। তাতেও সুস্থ না হয়ে তার অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়। পরে রোজিনাকে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়।

 

 

এর কিছুদিন পরই ৩ আগস্ট ওই ক্লিনিকে অপারেশনের পরপরই ভূমিষ্ঠ শিশুর মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রসূতিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ওইদিন আলমডাঙ্গা বাবুপাড়ার সোহাগের স্ত্রী সিমা খাতুনের প্রসববেদনা উঠলে নেয়া হয় ইউনাইটেড ক্লিনিকে। ওইরাতেই ডা. বিডি দাস পিকলু অপারেশন করলে কন্যা সন্তান প্রসব করেন সিমা। এরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ভূমিষ্ঠ শিশু ও প্রসূতি। তাদের রাজশাহী মেডিকেলে রেফার করলে সেখানকার চিকিৎসক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

২০১৮ সালের ২৭ জুলাই আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ক্লিনিকের বিভিন্ন কেবিন অপরিষ্কার, রোগীদের পচা খাবার পরিবেশন করার অভিযোগে এ জরিমানা করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান।

 

 

২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে বুদো জোয়ার্দ্দার (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান চৌধুরী চিকিৎসক না হয়েও রোগীর শরীরে ইনজেকশন দেয়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

 

ভুল চিকিৎসায় বুদো জোয়ার্দ্দারের মৃত্যু হয়েছে -এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও বিক্ষুব্ধ লোকেরা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

 

সেই সময় ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান চৌধুরী এবং ক্লিনিকের অংশীদার সাব্বির রহমানের বাবা সাইদুর রহমানকে (৫০) আটক করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারের সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares