শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
শামিমের ভাষায়:
দিনটি ছিল ২১শে আগষ্ট ২০১৫ইং, আবু হেনা রনি ভাই বলেছিল “তুমি হবে আপকামিং কমেডি স্টার” স্বপ্ন সেই দিন থেকে দেখতে শুরু করলাম কিন্তু স্বপ্ন সত্যি করা যে খুব সহজ না এটা বুঝতে বুঝতে চার বছর কেটে গেল। ২০১৬ সালে (হা সো সিজন ৪) একবার সুযোগ এসেছিল তবে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ঠিক তার তিন বছর পরে আবার সুযোগ এলো স্বপ্ন সত্যি করার। আর স্বপ্ন সত্যি করতে তিন বছর যে কিভাবে কেটে গেল একটু বুঝতে পারলাম না। এই তিন বছরের প্রতিটা দিন ছিল আমার জীবেনর রোমাঞ্চকর। নিজের বাড়ির থেকে পার্কের বেঞ্চে সময় কেটেছে বেশি, নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য বন্ধুুদের আড্ডা, চায়ের দোকানে, পরিচিত-অপরিচি লোকের ভিড়ে নিজে তাদের একজন করতে চেয়েছি।
মাঠে ঘাটে কিংবা রাস্তার মোড়ে প্রতিটা জায়গাই ছিল আমার কাছে মঞ্চ। প্রথমে লোকজন বাঁচাল বলতো কখনো বদের হাড্ডি,তবে কেউ কেউ বলতো হাসির ফেরিওয়ালা। একসময় লোকজন ভালবেসে বলতো স্ট্রিট কমেডিয়ান”। প্রতি সপ্তাহে একদিন কিংবা দুই দিন করে কমেডি ক্লাব এর মিটআপ করে ক্লাবের সকল সদস্যের সামনে নিজেকে অন্যতম জাহির করতে চেষ্টা করছি। প্রতি মাসের শেষ শুক্রবার ক্লাবের মাসিক কমেডি শো ছিল আমার কাছে এক একটি সুযোগ নিজেকে নতুন করে পরিচিত করার। ঠিক এমনি শো করে কিছু সাংগঠনিক ও সাংবাদিক বীজ্ঞ ব্যাক্তির সাথে পরিচয় হতে শুরু করলে, এমন সময় পত্রিকায় জোক্স লেখা সুযোগ এলো।
বিলম্ব না করে শুরু করলাম “হাসির হাড়ি” নামে প্রচ্ছদ লিখতে। ধীরে ধীরে সব ঠিকঠাক ভাবে চলতে লাগল একটু দূরে কিংবা কাছে সদ্য-পরিচিত ব্যাক্তিদের সহযোগী অনেক মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ পাই,যা আমার জীবনে নতুন মাত্রা বাড়ায়। এরই সাথে বিভিন্ন আঞ্চলিক, আন্তকলেজ,জেলা ও বিভাগীয় এবং জাতীয় প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করা শুরু করি। এ সময় কতিপয় সাংস্কৃতিক বীজ্ঞ ব্যাক্তি মন্ডলের নিটক থেকে সরাসরি ভাবে সহযোগীতা ও শিক্ষণ পাই যার ফলফল স্বরূপ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ এ তাৎক্ষণিক অভিনয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগী হওয়ার সুযোগ পাই। যা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অর্জন বলে মনে করি। এভাবেই দিন ঘুরতে ঘুরতে জীবনে আসে আবার এন টিভি মার্সেল প্রেজেন্টস (হা সো সিজন ৫) এর অডিশন। ৪ই সেপ্টেম্বর দিনটা আমি কখনই ভুলবো না এই দিনটাতে আমি খুলনা গিয়ে অডিশন দেই এবং সারাদিনে অপেক্ষার পরে ওয়েটিং এ আমি নির্বাচিত হই, অতঃপর আমার হাতে এসে পৌছালো সিলেক্টেড ট্রফি। সত্যি কথা বলতে চার বছরের সকল সহ্য,ধৈর্য সংগ্রাম অবশেষ সফল হলো।
চার বছরে সবথেকে যা মজার বিষয় তা হল মাত্র চার বছরে ১২ টি কম্পানিতে কাজ করেছি,শুধুমাত্র স্বপ্ন বাচিঁয়ে রাখার জন্য অনেক ভাল ভাল কাজকে ত্যাগ করতে হয়েছে।তখন আমার কলিকরা বলেছিল আমি বোকা আমাকে দিয়ে কিছু হবে না, আজ তারাই বলে শুধু আমাকে দিয়েই সম্ভব- জানি না তারা সত্যি বলে নাকি ব্যঙ্গকরে। তবে স্বপ্নের উপর ভর করে বেঁচে ছিলাম বলেই আজ স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। তবে আমি স্বীকার করতে বাধ্য এই চার বছর আমার থিয়েটারে ও ক্লাবের প্রতিটা সদস্য এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিটা সদস্য আমার পাশে ছিল বলেই আমার স্বপ্ন বেঁচেছিল।
তাই তাদের ধন্যবাদ দেবার মতো কোন ভাষা কিংবা শব্দ আমার জানা নেই। এখন আমার প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বরিশালের ভাষা সবার সামনে তুলে ধরা। জানি না আমি এই ভ্রমন কতদূর যায় তবে সেরাদের সেরা হওয়ার জন্য প্রানপণে লড়ে যাবো। সবাই আমাকে সমার্থন করবেন যেন বরিশালের ভাষা ও ব্যঙ্গ-রসকে সকলের সামনে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পারি, সদাসর্বদা আমি এই আশাবাদ ব্যক্তকরি। তবে আমি নিঃসংকোচ বলতে পারি এই গল্পের চরিত্রের নাম ভিন্ন হলেও গল্পটা সবার জীবনে একই।
Leave a Reply