সংবাদ শিরোনাম:




সামরিক আগ্রাসন হলে পুরো অঞ্চল জ্বলবে: ইরান

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 10:41:07 am, Tuesday, 13 January 2026
  • 5 সংবাদটি দেখা হয়েছে




আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দেশটি যেকোনো ধরনের যুদ্ধ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে তার প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানকে সামরিকভাবে চাপে ফেলতে চায়, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি জানান, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাত ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং সামরিক সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ইরানের ক্ষেত্রেও ‘শক্তিশালী বিকল্প’ ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন।

ট্রাম্প জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তবে তার শর্ত—বৈঠকের আগে যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বন্ধ না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পথে যেতে পারে।

এই বক্তব্যের জবাবে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তিনি জানান, বর্তমান সংকট সত্ত্বেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ইরান পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন প্রথমে অর্থনৈতিক ইস্যু থেকে শুরু হলেও দ্রুত সরকারবিরোধী রূপ নেয়। তেহরান অভিযোগ করেছে, এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সক্রিয়ভাবে জড়িত।

আরাঘচির ভাষায়, কিছু শক্তি নিজেদের স্বার্থে এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে সেই আগুন পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে কোনো ঝটিকা সামরিক অভিযান গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। ফলে এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই।
সূত্র: আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

ক্ষুধার্ত বাবাকে খাওয়াতে চা-রুটি নিয়ে গেল শিশুসন্তান

সামরিক আগ্রাসন হলে পুরো অঞ্চল জ্বলবে: ইরান

প্রকাশের সময় : 10:41:07 am, Tuesday, 13 January 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দেশটি যেকোনো ধরনের যুদ্ধ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে তার প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানকে সামরিকভাবে চাপে ফেলতে চায়, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি জানান, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাত ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং সামরিক সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ইরানের ক্ষেত্রেও ‘শক্তিশালী বিকল্প’ ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন।

ট্রাম্প জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। তবে তার শর্ত—বৈঠকের আগে যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বন্ধ না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পথে যেতে পারে।

এই বক্তব্যের জবাবে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তিনি জানান, বর্তমান সংকট সত্ত্বেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ইরান পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন প্রথমে অর্থনৈতিক ইস্যু থেকে শুরু হলেও দ্রুত সরকারবিরোধী রূপ নেয়। তেহরান অভিযোগ করেছে, এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সক্রিয়ভাবে জড়িত।

আরাঘচির ভাষায়, কিছু শক্তি নিজেদের স্বার্থে এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে সেই আগুন পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে কোনো ঝটিকা সামরিক অভিযান গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। ফলে এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই।
সূত্র: আল জাজিরা