সংবাদ শিরোনাম:




ভোলায় বাল্যবিবাহ পড়ানোর চেষ্টায় কাজী-বর কারগারে ,জরিমানা

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 04:45:27 pm, Thursday, 13 June 2019
  • 1 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ইমতিয়াজুর রহমান ।। ভোলায় পৃথক দু’টি বাল্যবিবাহ পড়ানোর অপরাধে বর-কনে, অভিবাবক ও কাজিসহ ৯ জনের জেল-জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে তিনজনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড, ৪ জনকে ১০ হাজার টাকা করে ও ২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।আজ বৃহষ্পতিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর ৮ ধারা অনুযায়ী এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কাজী মো. ইকবাল হোসেন, তার সহকারী মো. হাসান, বর মো. সজিব। এদের মধ্যে কাজী মো. ইকবাল হোসেন সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজার এলাকার সৈয়দ আহম্মদ এর ছেলে। তার সহকারী মো. হাসান একই উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মো. আব্দুল মতিনের ছেলে এবং বর মো. সজিব বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের প্রবাসী মো. মফিজুল ইসলাম ফরাজীর স্ত্রী নাসিমা আক্তার, তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে কনে মোসা. ফাতেমা আক্তার মিতু, সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মো. সবুজ, মজিব উদ্দিন, মাইনুদ্দিন ও নাজিম উদ্দিন।

জানা যায়, বৃহষ্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ভোলা শহরের সামসুদ্দিন মার্কেটে অবস্থিত কাজী অফিসে বাল্যবিবাহ পড়ানোর সময় কাজী মো. ইকবাল হোসেন, তার সহকারী মো. হাসান ও বোরহানউদ্দিনের মো. সজিব (১৯), একই এলাকার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মোসা. ফাতেমা আক্তার মিতু ও তার মা নাসিমা আক্তারকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাদের মধ্যে কাজী, তার সহকারী ও বরকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। কনে ও তার মাকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়াও সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চেউয়াখালী গ্রাম থেকে বুধবার রাতে বাল্যবিবাহ পড়ানোর সময় বর, মেয়ের বাবা ও চাচাসহ ৪জনকে আটক করে পুলিশ।

এদের মধ্যে বর মো. সবুজ, মেয়ের বাবা মো. মজিব উদ্দিন, চাচা মাইনুদ্দিন ও নাজিম উদ্দিনকে ভ্রম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসময় মেয়ের বাবা বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত কন্যাকে বিবাহ দিবে না মর্মে মুচলেকা দেন।

ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহ সংগঠিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি এবং পুলিশের সহায়তায় ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাজী অফিস থেকে কাজীসহ ৫ জন ও সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন থেকে বর ও মেয়ের বাবাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড ও বাকি ৬ জনকে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

ক্ষুধার্ত বাবাকে খাওয়াতে চা-রুটি নিয়ে গেল শিশুসন্তান

ভোলায় বাল্যবিবাহ পড়ানোর চেষ্টায় কাজী-বর কারগারে ,জরিমানা

প্রকাশের সময় : 04:45:27 pm, Thursday, 13 June 2019

ইমতিয়াজুর রহমান ।। ভোলায় পৃথক দু’টি বাল্যবিবাহ পড়ানোর অপরাধে বর-কনে, অভিবাবক ও কাজিসহ ৯ জনের জেল-জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে তিনজনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড, ৪ জনকে ১০ হাজার টাকা করে ও ২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।আজ বৃহষ্পতিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর ৮ ধারা অনুযায়ী এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কাজী মো. ইকবাল হোসেন, তার সহকারী মো. হাসান, বর মো. সজিব। এদের মধ্যে কাজী মো. ইকবাল হোসেন সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজার এলাকার সৈয়দ আহম্মদ এর ছেলে। তার সহকারী মো. হাসান একই উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মো. আব্দুল মতিনের ছেলে এবং বর মো. সজিব বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামের প্রবাসী মো. মফিজুল ইসলাম ফরাজীর স্ত্রী নাসিমা আক্তার, তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে কনে মোসা. ফাতেমা আক্তার মিতু, সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মো. সবুজ, মজিব উদ্দিন, মাইনুদ্দিন ও নাজিম উদ্দিন।

জানা যায়, বৃহষ্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ভোলা শহরের সামসুদ্দিন মার্কেটে অবস্থিত কাজী অফিসে বাল্যবিবাহ পড়ানোর সময় কাজী মো. ইকবাল হোসেন, তার সহকারী মো. হাসান ও বোরহানউদ্দিনের মো. সজিব (১৯), একই এলাকার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মোসা. ফাতেমা আক্তার মিতু ও তার মা নাসিমা আক্তারকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাদের মধ্যে কাজী, তার সহকারী ও বরকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। কনে ও তার মাকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়াও সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চেউয়াখালী গ্রাম থেকে বুধবার রাতে বাল্যবিবাহ পড়ানোর সময় বর, মেয়ের বাবা ও চাচাসহ ৪জনকে আটক করে পুলিশ।

এদের মধ্যে বর মো. সবুজ, মেয়ের বাবা মো. মজিব উদ্দিন, চাচা মাইনুদ্দিন ও নাজিম উদ্দিনকে ভ্রম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসময় মেয়ের বাবা বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত কন্যাকে বিবাহ দিবে না মর্মে মুচলেকা দেন।

ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহ সংগঠিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি এবং পুলিশের সহায়তায় ভোলা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাজী অফিস থেকে কাজীসহ ৫ জন ও সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন থেকে বর ও মেয়ের বাবাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড ও বাকি ৬ জনকে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।