সংবাদ শিরোনাম:




বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঙ্গর,কোর্ষ্টগার্ডের অভিযানে ২০ মান আটক

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 08:07:22 pm, Friday, 30 April 2021
  • 2 সংবাদটি দেখা হয়েছে




তানজিল জামান জয়,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ করে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঙ্গর। ছয় ইঞ্জি থেকে দেড়ফুট সাইজের এই হাঙ্গর অধিকাংশ জেলের জালে ধরা পড়ছে গভীর সমুদ্রে। হাঙ্গর শিকার নিষেধ থ্কাায় অধিকাংশ জেলে জালে ধরা পড়া হাঙ্গর মাছ গুলো সাগরে ফেলে দিলেও কিছু জেলে হাঙ্গরগুলো নিয়ে আসছে উপকূলে।

 

শুক্রবার দুপুরে কলাপাড়া পায়রা বন্দর কোষ্টগার্ডের অভিযানে রাবনাবাদ নদীর মোহনা থেকে এক ট্রলার ভর্তি প্রায় ২০ মন ছোট হাঙ্গর আটক করেছে। আটক হাঙ্গর জনসম্মুখে পুড়িয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি শিকারীদের বিরুদ্ধে। তবে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, আটক করা হাঙ্গরগুলো হাতুড়ি বা কোলা হাঙ্গর বলে। সাগরে মাছ কমে গেলে অনেক সময় হাঙ্গরের দল সাগরের তলদেশ থেকে খাদ্যের জন্য উপরিভাগে চলে আসলে এগুলো ধরা পড়ে। আর বন কর্মকর্তা জানালেন বণ্য আইনে হাঙ্গর ধরা অপরাধ। তাই জব্দ হাঙ্গর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

 

উপকূলীয় কুয়াকাটায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে হাঙ্গর শিকার করে জেলেরা। শীত মেীসুমে মূলত হাঙ্গর বেশি ধরা পড়ে। জেলেদের জালে ধরা পড়া হাঙ্গর তখন বিভিন্ন শুটকি পল্লীতে বিক্রি করে দেয়। যা শুটকি করে বিদেশেও রপ্তানী করা হয়। তবে বন বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের হাঙ্গর শিকার বন্ধে প্রচারণা ও শাস্তির বিষয়টি জেলেদের কাছে প্রচার না করায় গভীর সমুদ্রে অহরহ ধরা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির হাঙ্গর।

 

তবে কলাপাড়ায় ধরা পড়া হাঙ্গরগুলো মসৃন হাতুড়ি প্রজাতির হাঙ্গর। যেটি বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রানী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের রক্ষিত বন্যপ্রানীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী সংরক্ষিত। এগুলো প্রায় তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বড় হয় বলে জানা যায়।

 

গত কয়েকদিন প্রচন্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারনে সাগরের তলদেশে আবহাওয়ার বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ করে গভীর সমুদ্র থেকে সাগরের উপরিভাগে হাঙ্গরগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে বলে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেন। তবে এভাবে হাঙ্গরগুলো মারা পড়ছে সমুদ্রে খাদ্যশৃঙ্খলে বিরুপ প্রভাব পড়তে বলে বলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, এভাবে হাঙ্গর মারা পড়লে প্রকৃতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে। এই হাঙ্গরগুলো অনেক বড় হয়। অথচ ধরা পড়া হাঙ্গরগুলো খুবই ছোট। আর জেলেরা বলেন, তারা সাগরে ইলিশের জাল পাতলেও তাতে ধরা পড়ছে হাঙ্গর। কী কারনে এতো হাঙ্গর ধরা পড়ছে তারা তা জানেন না বলে জানান। এগুলো বিক্রির জন্য মহিপুর মৎস্য বন্দরে নেয়ার পথে কোষ্টগার্ড আটক করে বলে জানান।

 

হাঙ্গর শিকার নিষিদ্ব থাকায় সেগুলো আটক করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

 

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, যেহেতু অনিচ্ছাকৃতভাবে জালে হাঙ্গর ধরা পড়েছে তাই জেলেসহ ট্রলারটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আটক করা মাছ পুড়িয়ে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

ক্ষুধার্ত বাবাকে খাওয়াতে চা-রুটি নিয়ে গেল শিশুসন্তান

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঙ্গর,কোর্ষ্টগার্ডের অভিযানে ২০ মান আটক

প্রকাশের সময় : 08:07:22 pm, Friday, 30 April 2021

তানজিল জামান জয়,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ করে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঙ্গর। ছয় ইঞ্জি থেকে দেড়ফুট সাইজের এই হাঙ্গর অধিকাংশ জেলের জালে ধরা পড়ছে গভীর সমুদ্রে। হাঙ্গর শিকার নিষেধ থ্কাায় অধিকাংশ জেলে জালে ধরা পড়া হাঙ্গর মাছ গুলো সাগরে ফেলে দিলেও কিছু জেলে হাঙ্গরগুলো নিয়ে আসছে উপকূলে।

 

শুক্রবার দুপুরে কলাপাড়া পায়রা বন্দর কোষ্টগার্ডের অভিযানে রাবনাবাদ নদীর মোহনা থেকে এক ট্রলার ভর্তি প্রায় ২০ মন ছোট হাঙ্গর আটক করেছে। আটক হাঙ্গর জনসম্মুখে পুড়িয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি শিকারীদের বিরুদ্ধে। তবে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, আটক করা হাঙ্গরগুলো হাতুড়ি বা কোলা হাঙ্গর বলে। সাগরে মাছ কমে গেলে অনেক সময় হাঙ্গরের দল সাগরের তলদেশ থেকে খাদ্যের জন্য উপরিভাগে চলে আসলে এগুলো ধরা পড়ে। আর বন কর্মকর্তা জানালেন বণ্য আইনে হাঙ্গর ধরা অপরাধ। তাই জব্দ হাঙ্গর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

 

উপকূলীয় কুয়াকাটায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমানে হাঙ্গর শিকার করে জেলেরা। শীত মেীসুমে মূলত হাঙ্গর বেশি ধরা পড়ে। জেলেদের জালে ধরা পড়া হাঙ্গর তখন বিভিন্ন শুটকি পল্লীতে বিক্রি করে দেয়। যা শুটকি করে বিদেশেও রপ্তানী করা হয়। তবে বন বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের হাঙ্গর শিকার বন্ধে প্রচারণা ও শাস্তির বিষয়টি জেলেদের কাছে প্রচার না করায় গভীর সমুদ্রে অহরহ ধরা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির হাঙ্গর।

 

তবে কলাপাড়ায় ধরা পড়া হাঙ্গরগুলো মসৃন হাতুড়ি প্রজাতির হাঙ্গর। যেটি বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রানী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের রক্ষিত বন্যপ্রানীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী সংরক্ষিত। এগুলো প্রায় তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বড় হয় বলে জানা যায়।

 

গত কয়েকদিন প্রচন্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারনে সাগরের তলদেশে আবহাওয়ার বিরুপ প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ করে গভীর সমুদ্র থেকে সাগরের উপরিভাগে হাঙ্গরগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে বলে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলেন। তবে এভাবে হাঙ্গরগুলো মারা পড়ছে সমুদ্রে খাদ্যশৃঙ্খলে বিরুপ প্রভাব পড়তে বলে বলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান।

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, এভাবে হাঙ্গর মারা পড়লে প্রকৃতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে। এই হাঙ্গরগুলো অনেক বড় হয়। অথচ ধরা পড়া হাঙ্গরগুলো খুবই ছোট। আর জেলেরা বলেন, তারা সাগরে ইলিশের জাল পাতলেও তাতে ধরা পড়ছে হাঙ্গর। কী কারনে এতো হাঙ্গর ধরা পড়ছে তারা তা জানেন না বলে জানান। এগুলো বিক্রির জন্য মহিপুর মৎস্য বন্দরে নেয়ার পথে কোষ্টগার্ড আটক করে বলে জানান।

 

হাঙ্গর শিকার নিষিদ্ব থাকায় সেগুলো আটক করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

 

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, যেহেতু অনিচ্ছাকৃতভাবে জালে হাঙ্গর ধরা পড়েছে তাই জেলেসহ ট্রলারটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আটক করা মাছ পুড়িয়ে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে।