নগর ভবনের সবকিছুই ‘ঝুলে আছে’

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 12:57:12 pm, Friday, 28 September 2018
  • 103 সংবাদটি দেখা হয়েছে




বেলায়েত বাবলু ||

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০ জুলাই। বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকা বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন এটা শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু তার সাথে নতুন পরিষদে কাউন্সিলর হিসেবে কে কে নগরভবনে যাচ্ছেন সে বিষয়টি ঝুলে আছে। কবে বন্ধ থাকা ভোট কেন্দ্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে, কবে গেজেট ঘোষনা করা হবে, সকল বিজয়ীর নাম ঘোষনা করা হবে আর কবেই বা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে তার সবই যেন ঝুলে আছে।

শেষ পর্যন্ত কতোজন নতুন কাউন্সিলর হতে পারবেন তা নিয়েও সংশয় আছে। নতুন মেয়র আর কাউন্সিলররা কবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন সে বিষয়টিও ঝুলে আছে। বর্তমানে যিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি সমর্থিত সেই মেয়র আহসান হাবিব কামাল তাঁর দায়িত্ব পালন শেষে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন না দল ত্যাগ করবেন কিংবা সবকিছু ছেড়ে অবকাশকালিন জীবনযাপন করবেন সেই সিদ্ধান্তটিও ঝুলে আছে।

বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরের মধ্যে কয়েকজন আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন তাও থেমে আছে। নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার দায়ে দল থেকে শোকজ হওয়া ১১ জনের বিরুদ্ধে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাও এখনো ঝুলে আছে।

প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন ও মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে যারা অতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সেজে ফায়দা লুটে কোটিপতি বনে গেছেন বিসিসির সেই সকল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যত কি হবে তাও ঝুলে আছে। মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে যারা অলস ভাতা গ্রহন করছেন তাদের ভাগ্যে কি জোটবে তাও ঝুলে আছে।

যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মেয়র কামালের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠ হওয়াদের বিষয়ে নতুন মেয়র এসে কি সিদ্ধান্ত নেবেন তাও সময়ের কারনে ঝুলে অঅছে। নতুন মেয়র আসলে অনেকে অনেক কিছু করবেন বিশেষ করে নিজেদের আখের গোছাবেন এমন ভাবনা নিয়ে বিসিসির যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অনেক হাকডাক মারা শুরু করে ছিলেন তাদের সেই তৎপরতাও অনেকটা থেমে আছে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বদলী জনিত কারনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পাওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে। কারন তাঁর অনুপস্থিতিতে যাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে আর্থিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট কবে ঘোষনা করা হবে সে ব্যাপারটিও এখনো ঝুলে আছে। ঝুলে থাকা উল্লেখিত বিষয় গুলো কবে সমাধা হবে তার উত্তর পেতেও আরো কিছুদিন নগরবাসীকে ঝুলে থাকতে হবে!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

নগর ভবনের সবকিছুই ‘ঝুলে আছে’

প্রকাশের সময় : 12:57:12 pm, Friday, 28 September 2018

বেলায়েত বাবলু ||

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০ জুলাই। বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকা বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন এটা শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু তার সাথে নতুন পরিষদে কাউন্সিলর হিসেবে কে কে নগরভবনে যাচ্ছেন সে বিষয়টি ঝুলে আছে। কবে বন্ধ থাকা ভোট কেন্দ্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে, কবে গেজেট ঘোষনা করা হবে, সকল বিজয়ীর নাম ঘোষনা করা হবে আর কবেই বা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে তার সবই যেন ঝুলে আছে।

শেষ পর্যন্ত কতোজন নতুন কাউন্সিলর হতে পারবেন তা নিয়েও সংশয় আছে। নতুন মেয়র আর কাউন্সিলররা কবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন সে বিষয়টিও ঝুলে আছে। বর্তমানে যিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি সমর্থিত সেই মেয়র আহসান হাবিব কামাল তাঁর দায়িত্ব পালন শেষে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন না দল ত্যাগ করবেন কিংবা সবকিছু ছেড়ে অবকাশকালিন জীবনযাপন করবেন সেই সিদ্ধান্তটিও ঝুলে আছে।

বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরের মধ্যে কয়েকজন আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন তাও থেমে আছে। নির্বাচনের সময় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার দায়ে দল থেকে শোকজ হওয়া ১১ জনের বিরুদ্ধে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাও এখনো ঝুলে আছে।

প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন ও মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে যারা অতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সেজে ফায়দা লুটে কোটিপতি বনে গেছেন বিসিসির সেই সকল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যত কি হবে তাও ঝুলে আছে। মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে যারা অলস ভাতা গ্রহন করছেন তাদের ভাগ্যে কি জোটবে তাও ঝুলে আছে।

যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মেয়র কামালের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠ হওয়াদের বিষয়ে নতুন মেয়র এসে কি সিদ্ধান্ত নেবেন তাও সময়ের কারনে ঝুলে অঅছে। নতুন মেয়র আসলে অনেকে অনেক কিছু করবেন বিশেষ করে নিজেদের আখের গোছাবেন এমন ভাবনা নিয়ে বিসিসির যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অনেক হাকডাক মারা শুরু করে ছিলেন তাদের সেই তৎপরতাও অনেকটা থেমে আছে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বদলী জনিত কারনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পাওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে। কারন তাঁর অনুপস্থিতিতে যাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে আর্থিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট কবে ঘোষনা করা হবে সে ব্যাপারটিও এখনো ঝুলে আছে। ঝুলে থাকা উল্লেখিত বিষয় গুলো কবে সমাধা হবে তার উত্তর পেতেও আরো কিছুদিন নগরবাসীকে ঝুলে থাকতে হবে!