অনিরাপদ হয়ে উঠছে বানারীপাড়া ভূমি অফিস Latest Update News of Bangladesh

শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:০১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




অনিরাপদ হয়ে উঠছে বানারীপাড়া ভূমি অফিস

অনিরাপদ হয়ে উঠছে বানারীপাড়া ভূমি অফিস




বানারীপাড়া প্রতিনিধি:বানারীপাড়ায় ৬৩ বছর ধরে সরকারী কোন জরিপ না হওয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ জটিল ও প্রকট আকার ধারণ করেছে।এ উপজেলায় ১৯৫৬ সালে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত এস এ জরিপের পর গত ৬ দশক ধরে আর কোন জরিপ না হওয়ায় রেকর্ড হালনাগাদ,রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ মানুষের নামজারী কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রেকর্ড ভলিউম ছেড়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মূল রেকর্ডীয় মালিকের নাম ও জমির তফসিল’র সঠিক তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম ব্যহত হয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়ে এ দপ্তরের কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া দিয়ারা জরিপ না হওয়ায় সন্ধ্যা নদীর তীরে জেগে ওঠা বিশাল চরের খাস সম্পত্তি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছেনা।এসব সম্পত্তি যে যেভাবে পারছে দখল করে ভোগ করছে। চরের বিশাল সম্পত্তির ধানের চাষ ও পরবর্তীতে ধান কাটা নিয়ে প্রতি বছর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনাও ঘটছে।ভূমি সংক্রান্ত শত শত মামলায় নিঃস্ব ও রিক্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে ভূমি অফিসে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজে গাফেলতি,অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে বানারীপাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসগুলো কার্যতঃ একটি জণ হয়রানিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যেখানে উৎকোচ ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সুবিধা নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা।

পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় বিপুল পরিমাণ খাস ও দেবোত্তর সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং ভিআইপিদের দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারী এই বিশাল পরিমাণ জমি বানারীপাড়ার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের দখলে রয়েছে। উপজেলার হাজারও নদীভাঙ্গা অসহায় মানুষ একদিকে যাযাবর জীবনযাপন করছে, অপরদিকে সরকারি জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে স্থাপনা। যে যেখান থেকে যেভাবে পেরেছে দখল করে নিয়েছে। বিগত ৬৩ বছরে কোন সরকারি জরিপ না হওয়ায় তাদের জন্য সুবিধা হয়ে গেছে। অথচ নদীতে ফসলী জমি ও ভিটে মাটি সহ সব হারানো অসহায় মানুষ লিজ চেয়েও জমি না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদিকে বার বার সরকারি জরিপের কথা শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।ওই দখলদার প্রভাবশালী মহল সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘জরিপ হলে গরীব হয়ে যাবেন’ এ ভীতি সৃষ্টি করে এবং উচ্চ পর্যায়ে লবিং করে জরিপ প্রতিহত করছে বলে সচেতনমহলের ধারণা।

বরিশালের অন্য সব উপজেলায় জরিপ সম্পন্ন হলেও রহস্যজনক কারণে বানারীপাড়া উপজেলায় জরিপ হচ্ছেনা।এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে যৌথবাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানে পৌর শহরে কিছুটা দখল মুক্ত করা হলেও রহস্যজনকভাবে অভিযান প্রথম দিনেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রভাবশালী ভূমি খেকোরা সন্ধা নদীর উভয় পারে প্রতিবছর যে নতুন চর পড়ছে তাও দখল করে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন বরাবরই নীরব থাকছে।উপজেলা ভূমি অফিসে এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোন কাগজপত্রই আপডেট নয় বলে জানায়।উপজেলার কোথায়, কি পরিমাণ খাস সম্পত্তি দখল ও বেদখল রয়েছে কিংবা কাকে কতটা লিজ দেয় হয়েছে এ ব্যপারেও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় দখলদারদের যাবতীয় অপতৎপরতায় ভূমি অফিসের অসাধূ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিভিন্ন সময় সহযোগীতা যুগিয়ে আসছেন। ফলে সাধারণ জনগন সেবার নামে সবসময়ই প্রতারিত হচেছন। ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবসময়ই স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের চাপের মধ্যে থাকায় তারা অসহায়ভাবেই আবার কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে সব কিছুতে সমর্থন-সহযোগীতা দিয়ে থাকেন এবং নিজেরাও আর্থিক সুবিধা ভোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দেশের প্রচলিত ভূমি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা এর জন্য দায়ী বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা। এদিকে প্রায় একযুগ সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূণ্য থাকার পর ২০০৯ সালের ২৭ আগষ্ট পঙ্কজ ঘোষকে পদায়ন কর হলেও ২০১১ সালে ১১ মে তিনি অন্যত্র বদলী হয়ে যান। এর পর আবার শুণ্য হয়ে পড়ে এ পদটি। ২০১৬ সালের ১২ মে সহকারী কমিশনা(ভূমি) পদে ইশরাত জাহান যোগদান করে পদোন্নতী জনিত কারনে ওই বছরের নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে তিনি চলে যান। দীর্ঘদিন পরে এ পদে বিপুল চন্দ্র দাসকে পদায়ন করা হলে কয়েক মাসের মাথায় পদোন্নতি জনিত কারণে তিনি বদলী হয়ে যাওয়ায় এ পদটি আবারও শূন্য হয়ে পড়ে। প্রায় এক বছর পরে গত ২৭ মার্চ এ পদে বকুল চন্দ্র কবিরাজ যোগদান করেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) বকুল চন্দ্র কবিরাজ জানান জরিপ না হওয়া ও রেকর্ড ভলিউম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মূল মালিকের নাম ও জমির তফসিল’র সঠিক তথ্য না পাওয়ায় রেকর্ড হালনাগাদ,রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ মানুষের নামজারী কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তিনি এ সমস্যা সমাধানে অতি জরুরী দিয়ারা ও সেটেলমেন্ট জরিপ অতি প্রয়োজন বলে জানান।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares