বিজ্ঞপ্তি :
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প
সংবাদ শিরোনাম:
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প




পাপিয়া কেলেঙ্কারিতে যেকোনো সময় আটক হতে পারেন জরিতরা

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 07:08:05 pm, Thursday, 5 March 2020
  • 0 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউয়ের সাথে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সচিব পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন রয়েছেন জানিয়ে সরকারের একটি বিশেষ সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, পাপিয়ার ঘনিষ্ঠ দুর্নীতিবাজ, অবৈধ অর্থের মালিকরা এখন রীতিমতো দৌড়াদৌড়ি করছেন। যারা পাপিয়াকে দিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড করেছেন, যারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় সহযোগিতা করে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়তে শক্তি যুগিয়েছেন, অভিজাত হোটেল থেকে ফ্লাটে বসানো রাতের আসরে মনোরঞ্জন করেছেন, ব্ল্যাকমেইল করেছেন সেইসব অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও করে—তাদের জন্য দুঃসংবাদ। দল, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীসহ সকল অপরাধীদের ভিডিওক্লিপসহ রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

সূত্র জানায়, যাচাইবাছাই শেষে যে কোনো সময় সবুজ সংকেত পেলেই এই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের আটক করা হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক গোয়েন্দা সূত্রও এমন অনেক তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা নজর রাখছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফোন করছেন গুলশানের ওই অভিজাত হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এমন অনেক প্রভাবশালী লোকজন। এর সঙ্গে না জড়াতে তাদের অনেকেই অনুরোধও করছেন।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এই অপকর্মের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে তাদেরকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপিয়ার মোবাইল ফোনে অনেক নম্বর পাওয়া গেছে, যারা বরাবরই বিতর্কিত। তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও কথোপকথনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাপিয়ার মোবাইল ফোনে যেসব ভিডিও পাওয়া গেছে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

পাপিয়াকাণ্ডে গুলশানের ওই পাঁচতারা হোটেলের তিন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে ওই হোটেলে গেলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, হোটেল থেকে তিনজনকে চাকরিচ্যুত করার তথ্য পেয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

র‍্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটির পরিচালনা পরিষদের শীর্ষ ব্যক্তিরা পাপিয়ার অপকর্মের কথা জেনেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কখনোই জানাননি। এটাও একটি অপরাধ। তাই এই অভিজাত হোটেলকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে পেতে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র‍্যাব।

এদিকে পাপিয়ার ঘনিষ্ঠদের খুঁজতে গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের সিসিটিভির ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাপিয়ার কাছে কারা যাওয়া-আসা করতেন, তা জানতে এরই মধ্যে ওই হোটেলের একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। এর আগে পাপিয়া সম্পর্কে তথ্য জানতে ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সূত্র জানায়, পাপিয়া শুধু পাঁচ তারকা হোটেলে নন, আরও অনেক জায়গায় বিভিন্ন পার্টি দিতেন। সেই পার্টিতে অনেক ভিআইপির আসা-যাওয়া ছিল। ওয়েস্টিনের বারে নিয়মিত বিশেষ পার্টির আয়োজন করতেন তিনি। ফার্মগেট ও নরসিংদীর বাসায় ডিজে ও ডিসকো পার্টির আয়োজন ছিল অনেকটা নিয়মিত। যারা পাপিয়াকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন, তাদের অনেকের সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে।

পাপিয়ার ধারণা ছিল, তাকে কেউ গ্রেপ্তারের সাহস দেখাবে না। তাই দিনের পর দিন পাঁচ তারকা হোটেলে নির্বিঘ্নে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগে পাপিয়া টের পান তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যে কোনো সময় বিপদে পড়তে পারেন। এটি টের পেয়েই বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পাপিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল- এমন অনেকের নামের তালিকা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছে, তারও খোঁজ চলছে। এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে পাপিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে মোবাইল ফোনসেটের চ্যাটিং লিস্টে অনেকের নাম পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো চ্যাটিং কিংবা ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে।

ডিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নরসিংদীর একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা পাপিয়া মাফিয়া ডনের মতো আচরণ করতেন। দ্রুতই কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিজাত হোটেলে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে পার্টির আয়োজন ছাড়াও মাদকবাণিজ্য ও জাল টাকার কারবার করতেন। প্রভাবশালীদের মাধ্যমে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ-অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়ে আসছিলেন তিনি। নিজে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। প্রতারণার ফাঁদ পেতে টাকা আদায়ে অনেককে নির্যাতনও করতেন তিনি।

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গত ২২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন পাপিয়ার স্বামী ও তার অবৈধ আয়ের হিসাবরক্ষক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। জাল টাকা উদ্ধার, অস্ত্র ও মাদকের পৃথক তিন মামলায় পাপিয়ার ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তার স্বামী মফিজুর রহমানেরও ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া মামলার অন্য দুই আসামি পাপিয়ার সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

পাপিয়া কেলেঙ্কারিতে যেকোনো সময় আটক হতে পারেন জরিতরা

প্রকাশের সময় : 07:08:05 pm, Thursday, 5 March 2020

ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউয়ের সাথে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সচিব পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন রয়েছেন জানিয়ে সরকারের একটি বিশেষ সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, পাপিয়ার ঘনিষ্ঠ দুর্নীতিবাজ, অবৈধ অর্থের মালিকরা এখন রীতিমতো দৌড়াদৌড়ি করছেন। যারা পাপিয়াকে দিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড করেছেন, যারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় সহযোগিতা করে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়তে শক্তি যুগিয়েছেন, অভিজাত হোটেল থেকে ফ্লাটে বসানো রাতের আসরে মনোরঞ্জন করেছেন, ব্ল্যাকমেইল করেছেন সেইসব অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও করে—তাদের জন্য দুঃসংবাদ। দল, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীসহ সকল অপরাধীদের ভিডিওক্লিপসহ রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

সূত্র জানায়, যাচাইবাছাই শেষে যে কোনো সময় সবুজ সংকেত পেলেই এই কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের আটক করা হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক গোয়েন্দা সূত্রও এমন অনেক তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা নজর রাখছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফোন করছেন গুলশানের ওই অভিজাত হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এমন অনেক প্রভাবশালী লোকজন। এর সঙ্গে না জড়াতে তাদের অনেকেই অনুরোধও করছেন।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এই অপকর্মের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে তাদেরকেও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপিয়ার মোবাইল ফোনে অনেক নম্বর পাওয়া গেছে, যারা বরাবরই বিতর্কিত। তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও কথোপকথনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাপিয়ার মোবাইল ফোনে যেসব ভিডিও পাওয়া গেছে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

পাপিয়াকাণ্ডে গুলশানের ওই পাঁচতারা হোটেলের তিন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে ওই হোটেলে গেলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, হোটেল থেকে তিনজনকে চাকরিচ্যুত করার তথ্য পেয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

র‍্যাবের তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলটির পরিচালনা পরিষদের শীর্ষ ব্যক্তিরা পাপিয়ার অপকর্মের কথা জেনেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কখনোই জানাননি। এটাও একটি অপরাধ। তাই এই অভিজাত হোটেলকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে পেতে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র‍্যাব।

এদিকে পাপিয়ার ঘনিষ্ঠদের খুঁজতে গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের সিসিটিভির ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাপিয়ার কাছে কারা যাওয়া-আসা করতেন, তা জানতে এরই মধ্যে ওই হোটেলের একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। এর আগে পাপিয়া সম্পর্কে তথ্য জানতে ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সূত্র জানায়, পাপিয়া শুধু পাঁচ তারকা হোটেলে নন, আরও অনেক জায়গায় বিভিন্ন পার্টি দিতেন। সেই পার্টিতে অনেক ভিআইপির আসা-যাওয়া ছিল। ওয়েস্টিনের বারে নিয়মিত বিশেষ পার্টির আয়োজন করতেন তিনি। ফার্মগেট ও নরসিংদীর বাসায় ডিজে ও ডিসকো পার্টির আয়োজন ছিল অনেকটা নিয়মিত। যারা পাপিয়াকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন, তাদের অনেকের সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে।

পাপিয়ার ধারণা ছিল, তাকে কেউ গ্রেপ্তারের সাহস দেখাবে না। তাই দিনের পর দিন পাঁচ তারকা হোটেলে নির্বিঘ্নে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগে পাপিয়া টের পান তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যে কোনো সময় বিপদে পড়তে পারেন। এটি টের পেয়েই বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পাপিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল- এমন অনেকের নামের তালিকা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছে, তারও খোঁজ চলছে। এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে পাপিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে মোবাইল ফোনসেটের চ্যাটিং লিস্টে অনেকের নাম পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো চ্যাটিং কিংবা ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে।

ডিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নরসিংদীর একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা পাপিয়া মাফিয়া ডনের মতো আচরণ করতেন। দ্রুতই কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিজাত হোটেলে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে পার্টির আয়োজন ছাড়াও মাদকবাণিজ্য ও জাল টাকার কারবার করতেন। প্রভাবশালীদের মাধ্যমে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ-অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়ে আসছিলেন তিনি। নিজে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। প্রতারণার ফাঁদ পেতে টাকা আদায়ে অনেককে নির্যাতনও করতেন তিনি।

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গত ২২ ফেব্রুয়ারি নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন পাপিয়ার স্বামী ও তার অবৈধ আয়ের হিসাবরক্ষক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। জাল টাকা উদ্ধার, অস্ত্র ও মাদকের পৃথক তিন মামলায় পাপিয়ার ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তার স্বামী মফিজুর রহমানেরও ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া মামলার অন্য দুই আসামি পাপিয়ার সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়।