সংবাদ শিরোনাম:




সাত চল্লিশ বছরেও ভাতা বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 06:03:37 pm, Wednesday, 21 November 2018
  • 20 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ঝালকাঠি প্রতিনিধি:মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত চল্লিশ বছর পর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে বঞ্চিত ঝালকাঠির সন্তান রণাঙ্গনের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম। শহিদুল ইসলাম ঝালকাঠি জেলাধীন নলছিটি উপজেলার রায়াপাশা গ্রামের মৃত হামেজ উদ্দিন মোল্লার পুত্র। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম (সৈজন) ১৯৭১ সালে পুলিশ কনষ্টবল হিসেবে কর্মরত অব্স্থায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রায় পালের খালে খাঁর ও দক্ষিন খুলনার বিভিন্ন রণাঙ্গনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন মর্মে প্রত্যয়ন পত্র রয়েছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রুপসা উপজেলা কমান্ড এর ডেপুটি কমান্ডার কাজি মোঃ ইয়াহিয়া, খুলনা জেলার সদর উপজেলার আইচগাতি (রাজাপুর) গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আঃ কাদের (লাল বইনং-০৪০২০১০০৩৬), কালিয়া উপজেলার দেওয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধা সরদার তকিবুর রহমান(লাল বই নং-০৪০৭০৩০৩২৬) এবং খুলনা জেলা সদরের আইচগাতি (রাজাপুর) গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান হাওলাদার (লাল বইনং-০৪০২০১০০৫১) প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করেন, “মোঃ শহিদুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় খুলনা জেলার পাইকগাছা থানাধীন হাতিয়াডাঙ্গা মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে একসাথে যুদ্ধ করেছেন। সর্বশেষ খুলনা রেডিও সেন্টারে তারা মুক্তিযুদ্ধ করে আহত হন”।

উল্লেখ্য শহিদলু ইসলামের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সকল মূল্যবান কাগজপত্র হারিয়ে গেলে নলছিটি থানায় ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারী একটি সাধারন ডায়েরী (ডায়েরী নং ৬৭২) করেন। তিনি তাতে উল্লেখ করেছেন কাগজপত্র হারানোর কারণে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হতে বঞ্চিত রয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালে অবসরে যান। তিনি বর্তমানে অন্য কোন উপার্জন না থাকায় ২ছেলে ২মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে জানান মুক্তিযুদ্ধে সময় অনেক রাজাকার ও বিতর্কিত লোকও নিয়ম ভর্হিভূতভাবে মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় থেকে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা গ্রহন করছেন। যা অত্যান্ত কষ্টের ব্যাপার। অথচ অনেক মুক্তিযোদ্ধা যারা জীবনকে বাজি রেখে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অনেকে সময়মত কাগজপত্র দিতে না পারায় বা অন্য কারণে তালিকা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সরকারের দেয়া বহু সুযোগ সুবিদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনা করে যাতে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিদা পেতে পারেন তার আবেদন জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী-দেবর আটক

সাত চল্লিশ বছরেও ভাতা বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল

প্রকাশের সময় : 06:03:37 pm, Wednesday, 21 November 2018

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত চল্লিশ বছর পর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে বঞ্চিত ঝালকাঠির সন্তান রণাঙ্গনের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম। শহিদুল ইসলাম ঝালকাঠি জেলাধীন নলছিটি উপজেলার রায়াপাশা গ্রামের মৃত হামেজ উদ্দিন মোল্লার পুত্র। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম (সৈজন) ১৯৭১ সালে পুলিশ কনষ্টবল হিসেবে কর্মরত অব্স্থায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রায় পালের খালে খাঁর ও দক্ষিন খুলনার বিভিন্ন রণাঙ্গনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন মর্মে প্রত্যয়ন পত্র রয়েছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রুপসা উপজেলা কমান্ড এর ডেপুটি কমান্ডার কাজি মোঃ ইয়াহিয়া, খুলনা জেলার সদর উপজেলার আইচগাতি (রাজাপুর) গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আঃ কাদের (লাল বইনং-০৪০২০১০০৩৬), কালিয়া উপজেলার দেওয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধা সরদার তকিবুর রহমান(লাল বই নং-০৪০৭০৩০৩২৬) এবং খুলনা জেলা সদরের আইচগাতি (রাজাপুর) গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান হাওলাদার (লাল বইনং-০৪০২০১০০৫১) প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করেন, “মোঃ শহিদুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় খুলনা জেলার পাইকগাছা থানাধীন হাতিয়াডাঙ্গা মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে একসাথে যুদ্ধ করেছেন। সর্বশেষ খুলনা রেডিও সেন্টারে তারা মুক্তিযুদ্ধ করে আহত হন”।

উল্লেখ্য শহিদলু ইসলামের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সকল মূল্যবান কাগজপত্র হারিয়ে গেলে নলছিটি থানায় ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারী একটি সাধারন ডায়েরী (ডায়েরী নং ৬৭২) করেন। তিনি তাতে উল্লেখ করেছেন কাগজপত্র হারানোর কারণে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হতে বঞ্চিত রয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালে অবসরে যান। তিনি বর্তমানে অন্য কোন উপার্জন না থাকায় ২ছেলে ২মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে জানান মুক্তিযুদ্ধে সময় অনেক রাজাকার ও বিতর্কিত লোকও নিয়ম ভর্হিভূতভাবে মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় থেকে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা গ্রহন করছেন। যা অত্যান্ত কষ্টের ব্যাপার। অথচ অনেক মুক্তিযোদ্ধা যারা জীবনকে বাজি রেখে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অনেকে সময়মত কাগজপত্র দিতে না পারায় বা অন্য কারণে তালিকা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সরকারের দেয়া বহু সুযোগ সুবিদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি মানবিক দিক বিবেচনা করে যাতে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিদা পেতে পারেন তার আবেদন জানিয়েছেন।