সংবাদ শিরোনাম:




শেষ মুহূর্তে বড় রদবদল, বিএনপির মনোনয়নে চমক

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 11:24:21 am, Monday, 29 December 2025
  • 6 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ডেস্ক রিপোর্ট ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটগত সমীকরণ ও মাঠপর্যায়ের জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকায় ধারাবাহিক পরিবর্তন আনছে বিএনপি। দলটি দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে মিত্র দলগুলোর জন্য অন্তত ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। বাকি আসনগুলোর মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তার জানা মতে ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রতিদিন একাধিক পরিবর্তনের কারণে তালিকা একসঙ্গে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রামে একাধিক আসনে নাটকীয় পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাউজান (চট্টগ্রাম-৬) আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয় এবং তার নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি আগে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুকের জন্য রাখা হলেও অলি আহমদের দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় সেখানে বিএনপি জসিমউদ্দিনকে প্রার্থী করেছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে কাজী সালাহউদ্দিনের বদলে আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে সরিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।

উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও পরিবর্তন এসেছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানে বিএনপির নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সাবেক সচিবের পরিবর্তে কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে প্রার্থী করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে আবদুস সালাম আজাদ এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মো. মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন। ঝিনাইদহ-১ আসনে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে। নড়াইল-২ আসনে জোটসঙ্গী এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাস্তবতা বদলায়। সেই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

ক্ষুধার্ত বাবাকে খাওয়াতে চা-রুটি নিয়ে গেল শিশুসন্তান

শেষ মুহূর্তে বড় রদবদল, বিএনপির মনোনয়নে চমক

প্রকাশের সময় : 11:24:21 am, Monday, 29 December 2025

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটগত সমীকরণ ও মাঠপর্যায়ের জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকায় ধারাবাহিক পরিবর্তন আনছে বিএনপি। দলটি দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে মিত্র দলগুলোর জন্য অন্তত ১৫টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। বাকি আসনগুলোর মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তার জানা মতে ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রতিদিন একাধিক পরিবর্তনের কারণে তালিকা একসঙ্গে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রামে একাধিক আসনে নাটকীয় পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাউজান (চট্টগ্রাম-৬) আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয় এবং তার নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি আগে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুকের জন্য রাখা হলেও অলি আহমদের দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় সেখানে বিএনপি জসিমউদ্দিনকে প্রার্থী করেছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে কাজী সালাহউদ্দিনের বদলে আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে সরিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।

উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও পরিবর্তন এসেছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানে বিএনপির নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সাবেক সচিবের পরিবর্তে কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে প্রার্থী করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে আবদুস সালাম আজাদ এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মো. মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন। ঝিনাইদহ-১ আসনে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে। নড়াইল-২ আসনে জোটসঙ্গী এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাস্তবতা বদলায়। সেই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।