যেভাবে ঈদ কেটেছে নুসরাতের পরিবারের

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 02:51:51 pm, Tuesday, 4 August 2020
  • 3 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে হত্যাকারীর আগুনে ঝলসে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নুসরাতকে হারিয়ে ভালো নেই তার পরিবার।

 

 

একমাত্র নুসরাত জাহান রাফিকে ছাড়া ঈদ করতে গিয়ে শোকে বিহ্বল নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও বাবা এ কে এম মুসা। বোন হারানোর বেদনায় কাতর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমাদের জীবনে আর কোনোদিন ঈদ আসবে না। নুসরাতের কথা আমরা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। ঈদের দিন নুসরাতকে আরো বেশি মনে পড়ছে। কোনোভাবেই তাদের কান্না আমি থামাতে পারছি না। আসলে আমাদের বুকের ভেতরে আগুন জ্বলছে। আমাদের বুকটা আগুনে পুড়ছে। কী অসহ্য কষ্ট, বোঝাতে পারবো না। যে বোন ছিল আমাদের আশার বাতি, সেই বোনকে নিজের সঙ্গে হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারা গেলো।

 

 

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, দুই ছেলে ও নুসরাতের বাবা সারারাত ঘুমাননি। মেয়ে ও বোনের জন্য শোকে তারা কাতর। বাবা কোরআন তেলাওয়াত করেছেন। আর কিছুক্ষণ পরপর মা মা বলে নুসরাত নুসরাত বলে ডাকছেন।

 

 

নুসরাতের বাবা একেএম মুসা বলেন, আমাদের ঈদ আনন্দ নেই। সব আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে। নুসরাতের শূন্যতা আমাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জানি না সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এই শোক কাটিয়ে উঠবো।

 

 

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় আলিম (এইচএসসি) পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়।

 

 

পরে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান।

 

 

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একইসঙ্গে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দ্রুত বিচার শেষে আদালত ১৬ আসামীর ফাঁসির রায় দেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

যেভাবে ঈদ কেটেছে নুসরাতের পরিবারের

প্রকাশের সময় : 02:51:51 pm, Tuesday, 4 August 2020

ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে হত্যাকারীর আগুনে ঝলসে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নুসরাতকে হারিয়ে ভালো নেই তার পরিবার।

 

 

একমাত্র নুসরাত জাহান রাফিকে ছাড়া ঈদ করতে গিয়ে শোকে বিহ্বল নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও বাবা এ কে এম মুসা। বোন হারানোর বেদনায় কাতর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, আমাদের জীবনে আর কোনোদিন ঈদ আসবে না। নুসরাতের কথা আমরা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না। ঈদের দিন নুসরাতকে আরো বেশি মনে পড়ছে। কোনোভাবেই তাদের কান্না আমি থামাতে পারছি না। আসলে আমাদের বুকের ভেতরে আগুন জ্বলছে। আমাদের বুকটা আগুনে পুড়ছে। কী অসহ্য কষ্ট, বোঝাতে পারবো না। যে বোন ছিল আমাদের আশার বাতি, সেই বোনকে নিজের সঙ্গে হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারা গেলো।

 

 

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, দুই ছেলে ও নুসরাতের বাবা সারারাত ঘুমাননি। মেয়ে ও বোনের জন্য শোকে তারা কাতর। বাবা কোরআন তেলাওয়াত করেছেন। আর কিছুক্ষণ পরপর মা মা বলে নুসরাত নুসরাত বলে ডাকছেন।

 

 

নুসরাতের বাবা একেএম মুসা বলেন, আমাদের ঈদ আনন্দ নেই। সব আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে। নুসরাতের শূন্যতা আমাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জানি না সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এই শোক কাটিয়ে উঠবো।

 

 

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় আলিম (এইচএসসি) পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়।

 

 

পরে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান।

 

 

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একইসঙ্গে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দ্রুত বিচার শেষে আদালত ১৬ আসামীর ফাঁসির রায় দেন।