বিজ্ঞপ্তি :
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প
সংবাদ শিরোনাম:
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প




মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অস্ত্রঝনঝনানি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার আশঙ্কা

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 11:30:43 am, Thursday, 15 January 2026
  • 2 সংবাদটি দেখা হয়েছে




আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে—যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানে সরাসরি সামরিক হামলার পথে হাঁটছে? বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টা এই সংকটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সেনা ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে এর জবাব শুধু ইরানের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরানে ব্যাপক সহিংসতা চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৭ জনের বেশি মানুষ। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮ হাজার ১৩৭ জন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

সম্প্রতি এরফান সোলতানি নামের এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মাথায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এবার সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য উপযুক্ত অজুহাত খুঁজছে।

এই প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন ট্রাম্পের কাছে সম্ভাব্য হামলার একাধিক পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সাইবার অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কাতারসহ অন্যান্য ঘাঁটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। লোহিত সাগরে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কার্যত সব যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, যেকোনো বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে ইরান কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এদিকে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া স্পষ্ট করে বলেছে, ইরানে হামলা হলে তা হবে হোয়াইট হাউসের জন্য একটি বড় কৌশলগত ভুল। তুরস্কও সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্প হয়তো সরাসরি স্থলযুদ্ধের বদলে ড্রোন বা বিমান হামলার পথ বেছে নিতে পারেন।

সূত্র: রয়টার্স

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অস্ত্রঝনঝনানি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার আশঙ্কা

প্রকাশের সময় : 11:30:43 am, Thursday, 15 January 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে—যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানে সরাসরি সামরিক হামলার পথে হাঁটছে? বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টা এই সংকটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সেনা ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে এর জবাব শুধু ইরানের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরানে ব্যাপক সহিংসতা চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৭ জনের বেশি মানুষ। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮ হাজার ১৩৭ জন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

সম্প্রতি এরফান সোলতানি নামের এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মাথায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এবার সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য উপযুক্ত অজুহাত খুঁজছে।

এই প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন ট্রাম্পের কাছে সম্ভাব্য হামলার একাধিক পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সাইবার অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কাতারসহ অন্যান্য ঘাঁটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। লোহিত সাগরে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কার্যত সব যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, যেকোনো বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে ইরান কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এদিকে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া স্পষ্ট করে বলেছে, ইরানে হামলা হলে তা হবে হোয়াইট হাউসের জন্য একটি বড় কৌশলগত ভুল। তুরস্কও সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্প হয়তো সরাসরি স্থলযুদ্ধের বদলে ড্রোন বা বিমান হামলার পথ বেছে নিতে পারেন।

সূত্র: রয়টার্স