বিজ্ঞপ্তি :
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প
সংবাদ শিরোনাম:
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প




ভোলায় জেলে বেশি দেখিয়ে চাল বরাদ্দ,লোপাট

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 04:31:48 pm, Thursday, 23 July 2020
  • 1 সংবাদটি দেখা হয়েছে




অমিতাভ অপু, ভোলা॥ জেলায় সরকারি প্রণোদনার চাল বরাদ্দের জন্য গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলার ও জেলের সংখ্যা ৫ গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ফলে ২০ হাজার জেলের স্থানে বরাদ্দ এসেছে এক লাখ ৭ হাজার ৭৭ জনের।

 

 

৫৬ কেজি হারে ৫ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণের জন্য চলতি মাসে প্রথম কিস্তি উত্তোলন করেন ৬ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা। ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় প্রণোদনা হিসেবে জেলেপ্রতি ৫৬ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার।

 

হিসাব অনুয়ায়ী জেলায় ১২ কোটি টাকার চাল অতিরিক্ত বরাদ্দ এসেছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণও দেখানো হয়। বুধবার সমুদ্রগামী জেলেদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

 

 

জেলেদের অভিযাগ, বেশিরভাগ প্রকৃত জেলে বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে এমন অতিরিক্ত বরাদ্দ ছিল অপ্রত্যাশিত। সব ধরনের জেলের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে দেখিয়ে বেশিরভাগই বরাদ্দ লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ এ নিয়ে রিপোর্ট না করার অনুরোধও জানান।

 

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বিষয়টি সত্য উল্লেখ করে জানান, তড়িঘড়ি করে সমুদ্রে মাছ ধরে এমন জেলেদের তালিকা প্রাথমিকভাবে করা যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যানরা নদীসহ সব স্থানে মাছ ধরে এমন সব জেলের তালিকা পাঠিয়ে দেয়ায় বরাদ্দও আসে ওই ভাবে। তবে এখন প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজাহারুল হকও জানান একই কথা।

 

 

দৌলতখান উপজেলায় সাগরে মাছ ধরতে যায় এমন ট্রলারের সংখ্যা ৬৩টি। জেলে ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে চাল পেয়েছেন মাত্র ৩০০ জন। এমনটা জানান সাগরগামী ট্রলার মালিক সমিতির নেতা মো. ফয়সাল ও আবদুল মান্নান।

 

ওই উপজেলার ভবানীপুর, সৈয়দপুর, চরখলিফা ইউনিয়নে সাগরগামী জেলে রয়েছেন ৩০০ জন করে। অথচ ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ জন হারে। একই চিত্র মনপুরা উপজেলায়। ট্রলার ৭০টি, জেলে ১ হাজার ৫৪০ জন। ৪টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ১০ হাজার ৮১৫ জনের। উত্তর সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জনের।

 

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানদের তালিকায় ভুল থাকায় সব জেলেকেই সাগরগামী ধরা হয়েছে। লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদিপ্ত মিশ্র জানান, নতুন তালিকায় সমুদ্রগামী ওই এলাকায় ট্রলার ১৫০টি। প্রতিটিতে ২০ জন হারে জেলে ৩ হাজার। বরাদ্দ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩২৮ জনের। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাফুজুর রহমান জানান, ট্রলার আনুমানিক ১০০টি। জেলে ২ হাজার।

 

 

বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬৩ জনের। চরফ্যাশন উপজেলায় ট্রলার ৪০০টি। জেলে ৮ থেকে ১০ হাজার। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭৪ জনের জন্য।

 

দৌলতখানের ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম নবী নবু, ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ মুকু খান, ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন লিটন, লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম জানান, তারা যা বরাদ্দ পেয়েছেন সবটাই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।

 

চরফ্যাশন ঢালচরের ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ১ হাজার ৫০ জনের। অথচ তার এলাকায় জেলে রয়েছে ৩ হাজার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভোলায় জেলে বেশি দেখিয়ে চাল বরাদ্দ,লোপাট

প্রকাশের সময় : 04:31:48 pm, Thursday, 23 July 2020

অমিতাভ অপু, ভোলা॥ জেলায় সরকারি প্রণোদনার চাল বরাদ্দের জন্য গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলার ও জেলের সংখ্যা ৫ গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। ফলে ২০ হাজার জেলের স্থানে বরাদ্দ এসেছে এক লাখ ৭ হাজার ৭৭ জনের।

 

 

৫৬ কেজি হারে ৫ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণের জন্য চলতি মাসে প্রথম কিস্তি উত্তোলন করেন ৬ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানরা। ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় প্রণোদনা হিসেবে জেলেপ্রতি ৫৬ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার।

 

হিসাব অনুয়ায়ী জেলায় ১২ কোটি টাকার চাল অতিরিক্ত বরাদ্দ এসেছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণও দেখানো হয়। বুধবার সমুদ্রগামী জেলেদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

 

 

জেলেদের অভিযাগ, বেশিরভাগ প্রকৃত জেলে বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে এমন অতিরিক্ত বরাদ্দ ছিল অপ্রত্যাশিত। সব ধরনের জেলের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে দেখিয়ে বেশিরভাগই বরাদ্দ লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ এ নিয়ে রিপোর্ট না করার অনুরোধও জানান।

 

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বিষয়টি সত্য উল্লেখ করে জানান, তড়িঘড়ি করে সমুদ্রে মাছ ধরে এমন জেলেদের তালিকা প্রাথমিকভাবে করা যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যানরা নদীসহ সব স্থানে মাছ ধরে এমন সব জেলের তালিকা পাঠিয়ে দেয়ায় বরাদ্দও আসে ওই ভাবে। তবে এখন প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজাহারুল হকও জানান একই কথা।

 

 

দৌলতখান উপজেলায় সাগরে মাছ ধরতে যায় এমন ট্রলারের সংখ্যা ৬৩টি। জেলে ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে চাল পেয়েছেন মাত্র ৩০০ জন। এমনটা জানান সাগরগামী ট্রলার মালিক সমিতির নেতা মো. ফয়সাল ও আবদুল মান্নান।

 

ওই উপজেলার ভবানীপুর, সৈয়দপুর, চরখলিফা ইউনিয়নে সাগরগামী জেলে রয়েছেন ৩০০ জন করে। অথচ ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ জন হারে। একই চিত্র মনপুরা উপজেলায়। ট্রলার ৭০টি, জেলে ১ হাজার ৫৪০ জন। ৪টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানরা বরাদ্দ পেয়েছেন ১০ হাজার ৮১৫ জনের। উত্তর সাকুচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ২ হাজার ৩২৫ জনের।

 

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যানদের তালিকায় ভুল থাকায় সব জেলেকেই সাগরগামী ধরা হয়েছে। লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদিপ্ত মিশ্র জানান, নতুন তালিকায় সমুদ্রগামী ওই এলাকায় ট্রলার ১৫০টি। প্রতিটিতে ২০ জন হারে জেলে ৩ হাজার। বরাদ্দ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩২৮ জনের। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাফুজুর রহমান জানান, ট্রলার আনুমানিক ১০০টি। জেলে ২ হাজার।

 

 

বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬৩ জনের। চরফ্যাশন উপজেলায় ট্রলার ৪০০টি। জেলে ৮ থেকে ১০ হাজার। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭৪ জনের জন্য।

 

দৌলতখানের ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম নবী নবু, ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ মুকু খান, ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াসিন লিটন, লালমোহন লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম জানান, তারা যা বরাদ্দ পেয়েছেন সবটাই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।

 

চরফ্যাশন ঢালচরের ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ১ হাজার ৫০ জনের। অথচ তার এলাকায় জেলে রয়েছে ৩ হাজার।