বিজ্ঞপ্তি :
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই
সংবাদ শিরোনাম:
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই




ভোলায় দুই লাখ পরিবার জোয়ারের পানিতে বন্দী

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 11:12:42 pm, Thursday, 21 May 2020
  • 0 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ভোলা প্রতিনিধি॥ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে ভোলায় বৃহস্পতিবারও (২১ মে) বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে ভোলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের দুই লাখ পরিবার জোয়ারের পানিতে বন্দী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোলার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বাতাসের গতিবেগ আগের থেকে কমে গেছে। দুপুর পর্যন্ত মাঝেমধ্যে রোদ উঠতে দেখা গেছে।দুপুরে সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ঘর, বাড়ি, ফসলি জমি জোয়ারে ডুবে গেছে। লোকজন বাঁধের ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিচ্ছেন।

জোয়ারের পানির ধাক্কায় ঘরবাড়ির মেঝে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। সেখানকার মানুষেরা পানিতে হেঁটে কাজ করছেন। কাচিয়া মাঝের চরে ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ির উঠান। মানুষজনের উঠান, গোয়ালঘর ডুবে গেছে। গাছপালা ডুবে গেছে। খেতের ফসলও ডুবে গেছে। মানুষ পানির মধ্যে হেঁটে হেঁটে তাঁদের জরুরি কাজ সারছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার রামদাসপুর, কাচিয়া মাঝের চর, চর চটকিমারা, ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া, চর হোসেন, গাজীরচর, ভোলার চর, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর, হাজীপুর, নেয়ামতপুর, তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহির উদ্দিন, চর মমতাজ, মোজাম্মেল, ভাসনভাঙারচর, মনপুরা উপজেলার কলাতলি, চরনিজাম, চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরিমুকরি, মুজিবনগর, ঢালচর, লালমোহন উপজেলার কচুয়াখালী, শাহাজালালসহ প্রায় অর্ধশতাধিক চরাঞ্চলে দুপুরের জোয়ারে জমির ওপরে দু-তিন হাত পানি উঠেছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বাঁধ ছুঁই ছুঁই পানি উঠেছে। এসব চরের প্রায় দুই লাখ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ঢালচরের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, জোয়ারের পানির ঢেউয়ে ইউনিয়নে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিয়নের তিন শতাধিক মাছের পুকুর ডুবে গেছে। দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে দিনের চেয়ে রাতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে জোয়ারের পানির উচ্চতা ছিল মেঘনা নদীতে ৩ দশমিক ৫ মিটার। তেঁতুলিয়া নদীতে জোয়ারে পানির উচ্চতা ছিল ২ দশমিক ৭৮ মিটার—যা বিপৎসীমা থেকে ২৪ সেন্টিমিটার ওপরে। তবে বুধবার জোয়ারের উচ্চতা আরও বেশি ছিল। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান বুধবার দুপুরের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে এ ঝড় বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যায়।

ঝড়ের মধ্যে প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় এলাকার বাঁধ, ভেসে যায় মাছের ঘের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান

ভোলায় দুই লাখ পরিবার জোয়ারের পানিতে বন্দী

প্রকাশের সময় : 11:12:42 pm, Thursday, 21 May 2020

ভোলা প্রতিনিধি॥ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে ভোলায় বৃহস্পতিবারও (২১ মে) বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে ভোলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের দুই লাখ পরিবার জোয়ারের পানিতে বন্দী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোলার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বাতাসের গতিবেগ আগের থেকে কমে গেছে। দুপুর পর্যন্ত মাঝেমধ্যে রোদ উঠতে দেখা গেছে।দুপুরে সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ঘর, বাড়ি, ফসলি জমি জোয়ারে ডুবে গেছে। লোকজন বাঁধের ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিচ্ছেন।

জোয়ারের পানির ধাক্কায় ঘরবাড়ির মেঝে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। সেখানকার মানুষেরা পানিতে হেঁটে কাজ করছেন। কাচিয়া মাঝের চরে ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ির উঠান। মানুষজনের উঠান, গোয়ালঘর ডুবে গেছে। গাছপালা ডুবে গেছে। খেতের ফসলও ডুবে গেছে। মানুষ পানির মধ্যে হেঁটে হেঁটে তাঁদের জরুরি কাজ সারছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার রামদাসপুর, কাচিয়া মাঝের চর, চর চটকিমারা, ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া, চর হোসেন, গাজীরচর, ভোলার চর, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর, হাজীপুর, নেয়ামতপুর, তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহির উদ্দিন, চর মমতাজ, মোজাম্মেল, ভাসনভাঙারচর, মনপুরা উপজেলার কলাতলি, চরনিজাম, চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরিমুকরি, মুজিবনগর, ঢালচর, লালমোহন উপজেলার কচুয়াখালী, শাহাজালালসহ প্রায় অর্ধশতাধিক চরাঞ্চলে দুপুরের জোয়ারে জমির ওপরে দু-তিন হাত পানি উঠেছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বাঁধ ছুঁই ছুঁই পানি উঠেছে। এসব চরের প্রায় দুই লাখ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ঢালচরের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, জোয়ারের পানির ঢেউয়ে ইউনিয়নে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিয়নের তিন শতাধিক মাছের পুকুর ডুবে গেছে। দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে দিনের চেয়ে রাতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে জোয়ারের পানির উচ্চতা ছিল মেঘনা নদীতে ৩ দশমিক ৫ মিটার। তেঁতুলিয়া নদীতে জোয়ারে পানির উচ্চতা ছিল ২ দশমিক ৭৮ মিটার—যা বিপৎসীমা থেকে ২৪ সেন্টিমিটার ওপরে। তবে বুধবার জোয়ারের উচ্চতা আরও বেশি ছিল। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান বুধবার দুপুরের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে এ ঝড় বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যায়।

ঝড়ের মধ্যে প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় এলাকার বাঁধ, ভেসে যায় মাছের ঘের।