সংবাদ শিরোনাম:




ভুলের কারণে জলে গেল ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার ভবন

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 12:18:22 am, Saturday, 25 July 2020
  • 3 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেল ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার। সেই সাথে স্কুল এলাকার লক্ষ্মীরচরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 

 

গত কয়েক দিনের ভাঙনে ভবন এলাকার চারপাশে নদীগর্ভে চলে যায়। ভবনটি পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভবনটি নির্মাণের পর উদ্বোধন না হলেও তড়িগড়ি করে গত এক মাস আগে তা হস্তান্তর করা হয়। সাইড সিলেকশনে ভুলের কারণেই সরকারি টাকা জলে গেল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া বছরের পর বছর নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনও ভাঙনের প্রধান কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ওই স্থানে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করাটাই ঠিক হয়নি।

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিউল্লাহ সরকার জানান, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় নামে ওই ইউনিয়নের একমাত্র বিদ্যালয় হিসেবে নির্মিত হয় ভবনটি। এর আগে ২০০০ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়টি ১০ বার পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়। গত রোববার থেকে ভবনটি নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও বৃহস্পতিবার তলিয়ে যায়। এতে ইউনিয়নের একমাত্র বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া হুমকির মধ্যে পড়েছে। তাই এখানে একটি ভাসমান স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হোক।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী জানান, প্রতি বছরই আমরা ভাঙনের শিকার হচ্ছি। এবার পদ্মার ভাঙনে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩শ বাড়ি ঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও বেশ কিছু বসতঘর সরিয়ে নেওয়া হবে।

 

 

তিনি বলেন, গত বছর জানুয়ারিতে সাইট সিলেকশনের সময় মেঘনা নদী প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। তিনি বলেন, এতদিন ভবনটি টিকে থাকলেও এটি এখন নদীতে চলে গেছে।

 

 

সাইক্লোন শেল্টারের ঠিকাদার প্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য পারভেজ গাজী রনি বলেন, এখানকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এবং ইউনিয়নবাসীর কথা চিন্তা করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এখানে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার করে দিয়েছেন। এই ভবনটির সাইড সিলেকশনের সময় নদী এখান থেকে বহু দূরে ছিল। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে আমরা খুব দ্রুত ভবনটি নির্মাণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি।

 

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা জানান, স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ করা ছাড়া কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব নয়। ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নাই।

 

 

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নটি চারপাশে পদ্মা-মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত।

 

বর্তমানে পদ্মা-মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি ও প্রচণ্ড স্রোতে ভবনটি তলিয়ে গেছে। এই ভবনটি নির্মাণের পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কী না তা আমি জানি না। তাছাড়া এই স্থানে এমন ভবন নির্মাণ করাটাই ঠিক হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

ক্ষুধার্ত বাবাকে খাওয়াতে চা-রুটি নিয়ে গেল শিশুসন্তান

ভুলের কারণে জলে গেল ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার ভবন

প্রকাশের সময় : 12:18:22 am, Saturday, 25 July 2020

ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেল ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার। সেই সাথে স্কুল এলাকার লক্ষ্মীরচরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 

 

গত কয়েক দিনের ভাঙনে ভবন এলাকার চারপাশে নদীগর্ভে চলে যায়। ভবনটি পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভবনটি নির্মাণের পর উদ্বোধন না হলেও তড়িগড়ি করে গত এক মাস আগে তা হস্তান্তর করা হয়। সাইড সিলেকশনে ভুলের কারণেই সরকারি টাকা জলে গেল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া বছরের পর বছর নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনও ভাঙনের প্রধান কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ওই স্থানে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করাটাই ঠিক হয়নি।

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিউল্লাহ সরকার জানান, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় নামে ওই ইউনিয়নের একমাত্র বিদ্যালয় হিসেবে নির্মিত হয় ভবনটি। এর আগে ২০০০ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়টি ১০ বার পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়। গত রোববার থেকে ভবনটি নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেও বৃহস্পতিবার তলিয়ে যায়। এতে ইউনিয়নের একমাত্র বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া হুমকির মধ্যে পড়েছে। তাই এখানে একটি ভাসমান স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হোক।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী জানান, প্রতি বছরই আমরা ভাঙনের শিকার হচ্ছি। এবার পদ্মার ভাঙনে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩শ বাড়ি ঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও বেশ কিছু বসতঘর সরিয়ে নেওয়া হবে।

 

 

তিনি বলেন, গত বছর জানুয়ারিতে সাইট সিলেকশনের সময় মেঘনা নদী প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। তিনি বলেন, এতদিন ভবনটি টিকে থাকলেও এটি এখন নদীতে চলে গেছে।

 

 

সাইক্লোন শেল্টারের ঠিকাদার প্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য পারভেজ গাজী রনি বলেন, এখানকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এবং ইউনিয়নবাসীর কথা চিন্তা করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এখানে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার করে দিয়েছেন। এই ভবনটির সাইড সিলেকশনের সময় নদী এখান থেকে বহু দূরে ছিল। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে আমরা খুব দ্রুত ভবনটি নির্মাণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি।

 

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা জানান, স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ করা ছাড়া কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব নয়। ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নাই।

 

 

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নটি চারপাশে পদ্মা-মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত।

 

বর্তমানে পদ্মা-মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি ও প্রচণ্ড স্রোতে ভবনটি তলিয়ে গেছে। এই ভবনটি নির্মাণের পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কী না তা আমি জানি না। তাছাড়া এই স্থানে এমন ভবন নির্মাণ করাটাই ঠিক হয়নি।