সংবাদ শিরোনাম:




বৃদ্ধের পরিবারকে পেটালেন মেয়র

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 09:23:22 pm, Saturday, 12 December 2020
  • 1 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ তিন কোটি টাকার মামলা তুলে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক বৃদ্ধের পরিবারকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফুল হক। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার তিনলাখপীরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত ৫ জন হয়েছেন।

 

 

আহতরা হলেন- বাছির মিয়া (৬০), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৮), ছোটভাই বাচ্চু মিয়া (৫০), বোন আছিয়া বেগম (৭০) ও মেয়ে জোসনা বেগম (৩০)। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাছির মিয়া ও তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

বাছির মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের মালিকানাধীন ও সরকারিভাবে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয়া জায়গা থেকে আখাউড়া-আগরতলা রেলওয়ে প্রজেক্টে কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফুল হক স্বপনের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে সরবরাহ করে। এর ফলে আমরা ৩ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হই। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করি।

 

 

অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক, র‌্যাব-১৪, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবকে দেয়া হয়।

 

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কসবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে চারটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। আমরা ক্ষতিপূরণের দাবি করলে তা দিতে অস্বীকার করে।

 

 

এ ঘটনায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েলকে প্রধান করে ৬ জনকে আসামি করে তিন কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম সজিব, সুমন চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফুল হক স্বপনসহ আরও দুইজন।

 

 

বাছির মিয়ার ভাই বাচ্চু মিয়া বলেন, এ মামলার পরবর্তী হাজিরার তারিখ ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি। এরই মধ্যে পৌরসভা নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় এ মামলা নিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেকায়দায় পড়েছেন মেয়র জুয়েল। শনিবার দুপুরে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে তিনলাখপীর যান মেয়র জুয়েল। এ সময় মামলাটি তুলে নিতে বাছির মিয়াকে চাপপ্রয়োগ করে জুয়েল ও স্বপন।

 

 

বাচ্চু মিয়া আরও বলেন, বাছির মামলাটি তুলতে অস্বীকার জানালে তাকে বেদম প্রহার করা হয়। এ সময় আমি, আমার বোন, ভাবি ও ভাতিজি তাকে বাঁচাতে গেলে আমাদেরও পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ আসে। এ বিষয়ে মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

 

 

কসবা থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

ক্ষুধার্ত বাবাকে খাওয়াতে চা-রুটি নিয়ে গেল শিশুসন্তান

বৃদ্ধের পরিবারকে পেটালেন মেয়র

প্রকাশের সময় : 09:23:22 pm, Saturday, 12 December 2020

ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ তিন কোটি টাকার মামলা তুলে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক বৃদ্ধের পরিবারকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফুল হক। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার তিনলাখপীরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত ৫ জন হয়েছেন।

 

 

আহতরা হলেন- বাছির মিয়া (৬০), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৮), ছোটভাই বাচ্চু মিয়া (৫০), বোন আছিয়া বেগম (৭০) ও মেয়ে জোসনা বেগম (৩০)। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাছির মিয়া ও তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

বাছির মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের মালিকানাধীন ও সরকারিভাবে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয়া জায়গা থেকে আখাউড়া-আগরতলা রেলওয়ে প্রজেক্টে কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফুল হক স্বপনের নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে সরবরাহ করে। এর ফলে আমরা ৩ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হই। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করি।

 

 

অভিযোগের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক, র‌্যাব-১৪, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবকে দেয়া হয়।

 

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কসবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে চারটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। আমরা ক্ষতিপূরণের দাবি করলে তা দিতে অস্বীকার করে।

 

 

এ ঘটনায় ২০১৯ সালের নভেম্বরে যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েলকে প্রধান করে ৬ জনকে আসামি করে তিন কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম সজিব, সুমন চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শরিফুল হক স্বপনসহ আরও দুইজন।

 

 

বাছির মিয়ার ভাই বাচ্চু মিয়া বলেন, এ মামলার পরবর্তী হাজিরার তারিখ ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি। এরই মধ্যে পৌরসভা নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় এ মামলা নিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেকায়দায় পড়েছেন মেয়র জুয়েল। শনিবার দুপুরে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে তিনলাখপীর যান মেয়র জুয়েল। এ সময় মামলাটি তুলে নিতে বাছির মিয়াকে চাপপ্রয়োগ করে জুয়েল ও স্বপন।

 

 

বাচ্চু মিয়া আরও বলেন, বাছির মামলাটি তুলতে অস্বীকার জানালে তাকে বেদম প্রহার করা হয়। এ সময় আমি, আমার বোন, ভাবি ও ভাতিজি তাকে বাঁচাতে গেলে আমাদেরও পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ আসে। এ বিষয়ে মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

 

 

কসবা থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।