বিজ্ঞপ্তি :
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই
সংবাদ শিরোনাম:
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই




বরিশালে বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প থমকে গেছে কাজের গতি

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 02:24:56 am, Sunday, 30 June 2019
  • 1 সংবাদটি দেখা হয়েছে




অনলাইন ডেস্ক: ফনী, সিডর, আইলার মতো বিভিন্ন দুর্যোগের খবরে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও আলোচনার ঝড় ওঠে। তারপরও বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পে নেই গতি। প্রতি অর্থবছরেই থাকে অনেক অর্থ বরাদ্দ। তবুও লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও নেই প্রকল্পের গতি।গত জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। মে পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ৩৯ শতাংশ। তারপরও এ প্রকল্পের কাজে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা যায়। আশ্রয়কেন্দ্রে উল্টো করে টিউবওয়েল বসানো হয়েছে।

কাঠের পরিবর্তে দরজার চৌকাঠে স্টিল লাগানো হয়। ভবনের মূল সিঁড়ির ধাপ বাঁকা এবং ছোট-বড় করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ- আইএমইডির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সার্বিক ব্যাপারে জানতে প্রকল্প পরিচালক জাবেদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকিওরমেন্টের কাজ ২০১৮ সালে শেষ করার কথা ছিলো।

কিন্তু তা হয়নি। তাই একটু দেরি হয়েছে।ওয়ার্ক অর্ডার চলতি মাসে শেষ হচ্ছে। অনেক সময় চলে গেলেও মে পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৩৯ শতাংশ। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫৫৬টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ২৫০টির কাজ চলছে। ৬টি হ্যান্ডওভার করা হয়েছে।বিদ্যমান ৪৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রের সংস্কারকাজ চলছে। সংযোগ সড়কের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিকাদার কোনো সমস্যা করলে তা সারানো হচ্ছে।

সবমিলে আশা করা যায় নির্দিষ্ট সময়েই অর্থাৎ ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এলজিইডি মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সিডরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা এবং তাদের সম্পত্তিসহ গৃহপালিত জীব-জন্তুর নিরাপদ আশ্রয় দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার।একইসঙ্গে যাতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ব্যাপকভাবে শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। এরই অংশবিশেষ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালে বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা বেধে দেয়া হয়। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাভুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী। ৭৪টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ প্রকল্প।প্রকল্পের প্রধান কাজ ধরা হয় ৯ জেলার ৭৪টি উপজেলার জন্য নতুন আশ্রয়কেন্দ্র ৫৫৬টি। এরমধ্যে বরিশালে ৫৮টি, ভোলায় ৪২, কক্সবাজারে ৬২, লক্ষ্মীপুরে ৩৪ এবং নোয়াখালীতে ৩৫টি।

এসব নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা, এছাড়া বিভিন্ন জেলায় বিদ্যমান ৪৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কারে ব্যয় ধরা হয় ৩১৬ কোটি টাকা এবং দুর্যোগপ্রবণ মানুষের জন্য ৫৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫৫৮ কোটি টাকা।

এছাড়া যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও অফিস ইকুইপমেন্ট বাবদ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকা, ডিজাইন ও সুপারভিশনে ব্যয় ধরা হয় ১২৪ কোটি টাকা, ব্যক্তি পরামর্শকের জন্য ব্যয় ধরা হয় আট কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গ ব্যয়ের জন্যও অনুমোদন দেয় সরকার।

দুর্যোগের সময় ওই এলাকার জনগণ খুবই অসহায় হয়ে যায়। তাই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পটি যাতে দ্রুত শেষ করা যায় তার জন্য প্রতি অর্থবছরে বেশি করে অর্থও বরাদ্দ দেয় সরকার। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬২১ কোটি টাকা।

এরমধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ৩৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও ব্যয় হয় ৩৪০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় করা হয় ১৮৭ কোটি টাকা।তারপরও কিন্তু গত পাঁচ বছরে গতি আসেনি উন্নয়ন কাজে। প্রকল্পের শুরু থেকে গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয় ৫৭৯ কোটি টাকা। আট মাসের ব্যবধানে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৭২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। কিন্তু ডিপিপি অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ৫৬ শতাংশ। তাই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি থেকে অগ্রগতি পিছিয়ে আছে ৩০ শতাংশ।

নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে অর্ধেকেরও কম মাত্র ২৫০টি। বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার হয়েছে মাত্র ২৭০টি। আর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ২৫ কিলোমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাঁচ বছর পার হলেও কাজের বাস্তব চিত্র কি তা জানতে সম্প্রতি আইএমইডি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করে।তাতে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আইএমইডি গত জানুয়ারি মাসে এ প্রকল্পের আওতায় ৭টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ এবং ৪টি পুরনো আশ্রয়কেন্দ্রের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করে।প্রকল্পটি শুরুর পর চার বছর অতিবাহিত হলেও মাঠপর্যায়ে অফিস স্থাপন, সামাজিক ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র সংযোগকারী সড়কসহ ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ খাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।এছাড়া যেসব আশ্রয়কেন্দ্র নতুনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তরের জন্য চুক্তি সম্পাদনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, গত বছরও অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ওই প্রকল্পের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে আইএমইডি। তাতে বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ে।ফুলগাজী উপজেলার পশ্চিম বশিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন আশ্রয়কেন্দ্রর তৃতীয় তলায় উল্টো করে টিউবওয়েল বসানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন কক্ষের দরজার চৌকাঠ কাঠের পরিবর্তে স্টিলের লাগানো হয়।এছাড়া জিএমহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের মূল সিঁড়ির ধাপগুলো কিছুটা বাঁকা এবং ছোটো-বড়ো করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা সোলতানিয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ দিয়ে ঢোকার পরই বাথরুম এবং সেফটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়ছে। যা অসামঞ্জস্য।এভাবে বিভিন্নভাবে ত্রুটিযুক্ত কাজ করেও আর্থিক অগ্রগতি হয় ৩৫৬ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। যা এক বছরের ব্যবধানে গত জানয়ারি পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ২৬ শতাংশ। মে পর্যন্ত ৩৯ শতাংশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান

বরিশালে বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প থমকে গেছে কাজের গতি

প্রকাশের সময় : 02:24:56 am, Sunday, 30 June 2019

অনলাইন ডেস্ক: ফনী, সিডর, আইলার মতো বিভিন্ন দুর্যোগের খবরে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও আলোচনার ঝড় ওঠে। তারপরও বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পে নেই গতি। প্রতি অর্থবছরেই থাকে অনেক অর্থ বরাদ্দ। তবুও লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও নেই প্রকল্পের গতি।গত জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। মে পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ৩৯ শতাংশ। তারপরও এ প্রকল্পের কাজে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা যায়। আশ্রয়কেন্দ্রে উল্টো করে টিউবওয়েল বসানো হয়েছে।

কাঠের পরিবর্তে দরজার চৌকাঠে স্টিল লাগানো হয়। ভবনের মূল সিঁড়ির ধাপ বাঁকা এবং ছোট-বড় করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ- আইএমইডির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সার্বিক ব্যাপারে জানতে প্রকল্প পরিচালক জাবেদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকিওরমেন্টের কাজ ২০১৮ সালে শেষ করার কথা ছিলো।

কিন্তু তা হয়নি। তাই একটু দেরি হয়েছে।ওয়ার্ক অর্ডার চলতি মাসে শেষ হচ্ছে। অনেক সময় চলে গেলেও মে পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৩৯ শতাংশ। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫৫৬টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ২৫০টির কাজ চলছে। ৬টি হ্যান্ডওভার করা হয়েছে।বিদ্যমান ৪৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রের সংস্কারকাজ চলছে। সংযোগ সড়কের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিকাদার কোনো সমস্যা করলে তা সারানো হচ্ছে।

সবমিলে আশা করা যায় নির্দিষ্ট সময়েই অর্থাৎ ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এলজিইডি মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সিডরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা এবং তাদের সম্পত্তিসহ গৃহপালিত জীব-জন্তুর নিরাপদ আশ্রয় দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার।একইসঙ্গে যাতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ব্যাপকভাবে শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। এরই অংশবিশেষ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালে বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা বেধে দেয়া হয়। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাভুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী। ৭৪টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ প্রকল্প।প্রকল্পের প্রধান কাজ ধরা হয় ৯ জেলার ৭৪টি উপজেলার জন্য নতুন আশ্রয়কেন্দ্র ৫৫৬টি। এরমধ্যে বরিশালে ৫৮টি, ভোলায় ৪২, কক্সবাজারে ৬২, লক্ষ্মীপুরে ৩৪ এবং নোয়াখালীতে ৩৫টি।

এসব নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা, এছাড়া বিভিন্ন জেলায় বিদ্যমান ৪৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কারে ব্যয় ধরা হয় ৩১৬ কোটি টাকা এবং দুর্যোগপ্রবণ মানুষের জন্য ৫৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫৫৮ কোটি টাকা।

এছাড়া যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও অফিস ইকুইপমেন্ট বাবদ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকা, ডিজাইন ও সুপারভিশনে ব্যয় ধরা হয় ১২৪ কোটি টাকা, ব্যক্তি পরামর্শকের জন্য ব্যয় ধরা হয় আট কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গ ব্যয়ের জন্যও অনুমোদন দেয় সরকার।

দুর্যোগের সময় ওই এলাকার জনগণ খুবই অসহায় হয়ে যায়। তাই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পটি যাতে দ্রুত শেষ করা যায় তার জন্য প্রতি অর্থবছরে বেশি করে অর্থও বরাদ্দ দেয় সরকার। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬২১ কোটি টাকা।

এরমধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ৩৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও ব্যয় হয় ৩৪০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় করা হয় ১৮৭ কোটি টাকা।তারপরও কিন্তু গত পাঁচ বছরে গতি আসেনি উন্নয়ন কাজে। প্রকল্পের শুরু থেকে গত জুন পর্যন্ত ব্যয় হয় ৫৭৯ কোটি টাকা। আট মাসের ব্যবধানে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৭২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। কিন্তু ডিপিপি অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ হাজার ৬৪৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ৫৬ শতাংশ। তাই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি থেকে অগ্রগতি পিছিয়ে আছে ৩০ শতাংশ।

নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে অর্ধেকেরও কম মাত্র ২৫০টি। বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার হয়েছে মাত্র ২৭০টি। আর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ২৫ কিলোমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাঁচ বছর পার হলেও কাজের বাস্তব চিত্র কি তা জানতে সম্প্রতি আইএমইডি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করে।তাতে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আইএমইডি গত জানুয়ারি মাসে এ প্রকল্পের আওতায় ৭টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ এবং ৪টি পুরনো আশ্রয়কেন্দ্রের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করে।প্রকল্পটি শুরুর পর চার বছর অতিবাহিত হলেও মাঠপর্যায়ে অফিস স্থাপন, সামাজিক ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র সংযোগকারী সড়কসহ ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ খাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি।এছাড়া যেসব আশ্রয়কেন্দ্র নতুনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তরের জন্য চুক্তি সম্পাদনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, গত বছরও অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ওই প্রকল্পের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে আইএমইডি। তাতে বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ে।ফুলগাজী উপজেলার পশ্চিম বশিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন আশ্রয়কেন্দ্রর তৃতীয় তলায় উল্টো করে টিউবওয়েল বসানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন কক্ষের দরজার চৌকাঠ কাঠের পরিবর্তে স্টিলের লাগানো হয়।এছাড়া জিএমহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের মূল সিঁড়ির ধাপগুলো কিছুটা বাঁকা এবং ছোটো-বড়ো করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা সোলতানিয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ দিয়ে ঢোকার পরই বাথরুম এবং সেফটি ট্যাংক নির্মাণ করা হয়ছে। যা অসামঞ্জস্য।এভাবে বিভিন্নভাবে ত্রুটিযুক্ত কাজ করেও আর্থিক অগ্রগতি হয় ৩৫৬ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। যা এক বছরের ব্যবধানে গত জানয়ারি পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ২৬ শতাংশ। মে পর্যন্ত ৩৯ শতাংশ।