বিজ্ঞপ্তি :
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই
সংবাদ শিরোনাম:
কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই




পটুয়াখালীর দশমিনায় চুরির অপবাদে হত্যা, ১৬ মাস পর লাশ উত্তোলন

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 11:48:03 pm, Monday, 21 December 2020
  • 1 সংবাদটি দেখা হয়েছে




দশমিনা প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদি গ্রামের বড় মুন্সিবাড়ির ওলিউল (১৩) নামে এক কিশোরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। সোমবার দশমিনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল কায়উমের উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলন করা হয়।এ সময় মামলার আইও ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মো. হুমায়ুন কবির ও দশমিনা থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

 

নিহত কিশোর ওলিউলের বাবা জামাল মুন্সির অভিযোগ, ২০১৯ সালে তার ছেলেকে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক ও তার ছেলেসহ ৫ জন মিলে হত্যা করে। পরে আমার ছেলে ওলিউলকে হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে বলে অপপ্রচার চালায়।

 

থানা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামের ইউনুছ মুন্সির ছেলে মো. জামাল মুন্সি সংসারে অভাব-অনটনের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় কাজের খোঁজে যান। পরে সেখানে নিজে রাজজোগালি ও ছেলে ওলিউলকে একটি মাদ্রাসায় কোরান শিক্ষার জন্য ভর্তি করেন।

 

নিজের আয় রোজগার কম হওয়ায় মাদ্রাসায় লেখাপড়া বন্ধ করে ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপার বাজারের ধনিয়া সড়কে অবস্থিত স্বপন ঘোষের মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বয়ের কাজে দেন। জামাল মুন্সি বলেন, মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বয়ের কাজে যোগদানের ২৪ দিন পর ২২ আগস্ট মালিকের ছেলে দিপু ঘোষের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়।

 

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে ওলিউলকে রাতভর নির্যাতন শেষে ২৩ আগস্ট সকালে আমার ছেলেকে মেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে বলে আমাকে খবর দেয়।

 

এ ঘটনায় ওই দিন যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিহতের বাবা জামাল মুন্সি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

যার পিটিশন নং-২৮/২০২০। দায়েরকৃত মামলায় মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক স্বপন ঘোষ, দিপু ঘোষ, অজ্ঞাত নাহার (তারা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার ভাগ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের সোহেল ও সোহাগ সরদারকে আসামি করা হয়।

 

মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক দায়েরকৃত মামলা আমলে নিয়ে সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।

 

দায়েরকৃত মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহীনুর রহমান মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে ফাইনাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু নিহতের বাবা জামাল মুন্সি ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দাখিল করেন।

 

আদালত নারাজি আমলে নিয়ে পুনরায় মামলার তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার আইও এসআই মো. হুমায়ুন কবির চলতি মাসের ৩ ডিসেম্বর লাশের পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন।

 

আদালত আবেদন মঞ্জুর করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

কাশিপুরে ককটেল ফাটিয়ে জয় বাংলা স্লোগান

পটুয়াখালীর দশমিনায় চুরির অপবাদে হত্যা, ১৬ মাস পর লাশ উত্তোলন

প্রকাশের সময় : 11:48:03 pm, Monday, 21 December 2020

দশমিনা প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদি গ্রামের বড় মুন্সিবাড়ির ওলিউল (১৩) নামে এক কিশোরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। সোমবার দশমিনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল কায়উমের উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলন করা হয়।এ সময় মামলার আইও ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মো. হুমায়ুন কবির ও দশমিনা থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

 

নিহত কিশোর ওলিউলের বাবা জামাল মুন্সির অভিযোগ, ২০১৯ সালে তার ছেলেকে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক ও তার ছেলেসহ ৫ জন মিলে হত্যা করে। পরে আমার ছেলে ওলিউলকে হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে বলে অপপ্রচার চালায়।

 

থানা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামের ইউনুছ মুন্সির ছেলে মো. জামাল মুন্সি সংসারে অভাব-অনটনের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় কাজের খোঁজে যান। পরে সেখানে নিজে রাজজোগালি ও ছেলে ওলিউলকে একটি মাদ্রাসায় কোরান শিক্ষার জন্য ভর্তি করেন।

 

নিজের আয় রোজগার কম হওয়ায় মাদ্রাসায় লেখাপড়া বন্ধ করে ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপার বাজারের ধনিয়া সড়কে অবস্থিত স্বপন ঘোষের মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বয়ের কাজে দেন। জামাল মুন্সি বলেন, মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বয়ের কাজে যোগদানের ২৪ দিন পর ২২ আগস্ট মালিকের ছেলে দিপু ঘোষের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়।

 

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে ওলিউলকে রাতভর নির্যাতন শেষে ২৩ আগস্ট সকালে আমার ছেলেকে মেরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে বলে আমাকে খবর দেয়।

 

এ ঘটনায় ওই দিন যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিহতের বাবা জামাল মুন্সি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

 

যার পিটিশন নং-২৮/২০২০। দায়েরকৃত মামলায় মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক স্বপন ঘোষ, দিপু ঘোষ, অজ্ঞাত নাহার (তারা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার ভাগ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের সোহেল ও সোহাগ সরদারকে আসামি করা হয়।

 

মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক দায়েরকৃত মামলা আমলে নিয়ে সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।

 

দায়েরকৃত মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহীনুর রহমান মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে ফাইনাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু নিহতের বাবা জামাল মুন্সি ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দাখিল করেন।

 

আদালত নারাজি আমলে নিয়ে পুনরায় মামলার তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার আইও এসআই মো. হুমায়ুন কবির চলতি মাসের ৩ ডিসেম্বর লাশের পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন।

 

আদালত আবেদন মঞ্জুর করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।