বিজ্ঞপ্তি :
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প
সংবাদ শিরোনাম:
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প




দোহায় টেকসই সমাজের রূপরেখা দিলেন ড. ইউনূস

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 06:19:27 pm, Tuesday, 22 April 2025
  • 1 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দোহায় অনুষ্ঠিত ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, টেকসই ও স্থিতিশীল পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখনই সময় সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীর পৃথিবী রচনার।

ড. ইউনূস বলেন, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ কেবল উত্তরাধিকার নয়, এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলতে হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।”

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে নতুন এক সামাজিক চুক্তি গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই চুক্তিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

বক্তব্যে ড. ইউনূস বিশ্ব পরিস্থিতির সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মানবিক সংকটের কারণে বিশ্ব এখন একাধিক হুমকির সম্মুখীন। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের জন্য টেকসই উন্নয়নের পথ রচনায় দরকার আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রান্তিক জনগণের ক্ষমতায়ন—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, গত ৯ বছরে ঢাকা শহরের মানুষ মাত্র ৩১ দিন নির্মল বাতাস পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ পরিবেশ সংকটের অশনিসংকেত বহন করে। এই চিত্র বদলাতে হলে টেকসই নীতিমালা, দক্ষ শাসনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

সম্মেলনে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের এমন একটি পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে কেউ এতটা দরিদ্র থাকবে না যে সে স্বপ্ন দেখতেও পারবে না, এবং কোনো স্বপ্ন এত বড় হবে না যে তা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

কাতার ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সম্মেলনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, ঐতিহ্য ও অংশীদারিত্বের শক্তি দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব—এটি কাতার প্রমাণ করেছে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি সামাজিক ব্যবসা, মাইক্রোফাইন্যান্স এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে।

ড. ইউনূস কাতারের আমন্ত্রণে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

দোহায় টেকসই সমাজের রূপরেখা দিলেন ড. ইউনূস

প্রকাশের সময় : 06:19:27 pm, Tuesday, 22 April 2025

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দোহায় অনুষ্ঠিত ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, টেকসই ও স্থিতিশীল পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখনই সময় সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামীর পৃথিবী রচনার।

ড. ইউনূস বলেন, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ কেবল উত্তরাধিকার নয়, এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলতে হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।”

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে নতুন এক সামাজিক চুক্তি গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই চুক্তিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

বক্তব্যে ড. ইউনূস বিশ্ব পরিস্থিতির সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মানবিক সংকটের কারণে বিশ্ব এখন একাধিক হুমকির সম্মুখীন। এই বাস্তবতা থেকে উত্তরণের জন্য টেকসই উন্নয়নের পথ রচনায় দরকার আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রান্তিক জনগণের ক্ষমতায়ন—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, গত ৯ বছরে ঢাকা শহরের মানুষ মাত্র ৩১ দিন নির্মল বাতাস পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ পরিবেশ সংকটের অশনিসংকেত বহন করে। এই চিত্র বদলাতে হলে টেকসই নীতিমালা, দক্ষ শাসনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

সম্মেলনে ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের এমন একটি পৃথিবী গড়তে হবে যেখানে কেউ এতটা দরিদ্র থাকবে না যে সে স্বপ্ন দেখতেও পারবে না, এবং কোনো স্বপ্ন এত বড় হবে না যে তা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

কাতার ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সম্মেলনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, ঐতিহ্য ও অংশীদারিত্বের শক্তি দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব—এটি কাতার প্রমাণ করেছে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি সামাজিক ব্যবসা, মাইক্রোফাইন্যান্স এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে।

ড. ইউনূস কাতারের আমন্ত্রণে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।