বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ মাঠের বাইরে একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক চাকা নাড়িয়ে দিতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে আইপিএলের সাম্প্রতিক ঘটনা। জাতীয় দলের এই পেসারকে নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়ার পর কলকাতা নাইট রাইডার্স হঠাৎ করেই তাকে ছেড়ে দেয়। বিভিন্ন মহলে ধারণা, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক চাপ কাজ করেছে।
এরপর থেকেই বিষয়টি কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর জেরে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেয়, যে আসর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন পাকিস্তানও প্রথমে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেয়। যদিও পরে তারা জানায়, তারা কেবল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে।
একজন খেলোয়াড়ের চুক্তি বাতিলের কারণে যেখানে ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৯ কোটির বেশি, সেখানে বৈশ্বিক ক্রিকেট অর্থনীতিতে এর প্রভাব শত শত কোটি ডলারের ঘরে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ আধুনিক ক্রিকেট এখন মূলত বাণিজ্যিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের একটি গড় বাণিজ্যিক মূল্য থাকলেও সব ম্যাচের গুরুত্ব সমান নয়। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক দ্বৈরথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একটি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই ম্যাচ চলাকালে ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন স্লট বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপিতে এবং মোট বিজ্ঞাপন আয় প্রায় ৩০০ কোটি রুপি।
এই ম্যাচগুলো না হলে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান জিওস্টার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি আইসিসির ওপর ক্ষতিপূরণ ও চুক্তিগত চাপ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলে তারাও অংশগ্রহণ ফি, সম্প্রচার আয়ের ভাগ ও স্পনসরশিপ থেকে বড় অঙ্কের সম্ভাব্য আয় হারাবে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, একজন ক্রিকেটারকে ঘিরে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশাল আর্থিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
Leave a Reply