চিঠিতে যা লেখে গেলেন নুসরাত

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 10:55:05 pm, Wednesday, 10 April 2019
  • 2 সংবাদটি দেখা হয়েছে




অনলাইন ডেস্ক:ফেনীর সোনাগাজীতে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির লেখা একটি চিঠি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে আলামত সংগ্রহের সময় চিঠিটি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।তিনি জানান, দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে খাতায় লেখা নুসরাতের চিঠির তিনটি পাতার মধ্যে মাঝের পাতাটি পাওয়া যায়নি।উদ্ধার হওয়া চিঠির পাতা দুটির কপি সাংবাদিকদেরও দিয়েছে পুলিশ।

দুই বান্ধবী তামান্না ও সাথীকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে নুসরাত গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করেন। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদদৌলাহ গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সে। এছাড়া তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও তার মর্মাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা পরীক্ষার আগে তাকে ‘প্রশ্ন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়’ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন নুসরাত।

দুই বান্ধবীকে লখো নুসরাতরে চঠি

চিঠিতে নুসরাত লিখেছেন, ‘আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে, সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না।মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নেবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাত সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বোরকা পরিহিত ৪/৫ জন। এতে নুসরাতের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

রোববার তার চিকিৎসায় ৯ সদস্যের বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর ওপর এমন নির্মমতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি তাকে সিঙ্গাপুরে নিযে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নুসরাতের শারীরিক অবস্থা বিমান ভ্রমণের উপযোগী না থাকায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

চিঠিতে যা লেখে গেলেন নুসরাত

প্রকাশের সময় : 10:55:05 pm, Wednesday, 10 April 2019

অনলাইন ডেস্ক:ফেনীর সোনাগাজীতে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির লেখা একটি চিঠি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়িতে গিয়ে আলামত সংগ্রহের সময় চিঠিটি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।তিনি জানান, দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে খাতায় লেখা নুসরাতের চিঠির তিনটি পাতার মধ্যে মাঝের পাতাটি পাওয়া যায়নি।উদ্ধার হওয়া চিঠির পাতা দুটির কপি সাংবাদিকদেরও দিয়েছে পুলিশ।

দুই বান্ধবী তামান্না ও সাথীকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে নুসরাত গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করেন। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদদৌলাহ গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সে। এছাড়া তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও তার মর্মাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা পরীক্ষার আগে তাকে ‘প্রশ্ন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়’ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন নুসরাত।

দুই বান্ধবীকে লখো নুসরাতরে চঠি

চিঠিতে নুসরাত লিখেছেন, ‘আমি লড়বো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে, সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না।মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নেবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাত সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বোরকা পরিহিত ৪/৫ জন। এতে নুসরাতের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

রোববার তার চিকিৎসায় ৯ সদস্যের বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর ওপর এমন নির্মমতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি তাকে সিঙ্গাপুরে নিযে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নুসরাতের শারীরিক অবস্থা বিমান ভ্রমণের উপযোগী না থাকায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।