বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ আসামে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হলেই কাউকে আর কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ছাড়াই ভারত থেকে বিতাড়ন করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই আসামে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন বিজেপির এই প্রভাবশালী নেতা। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের ক্ষেত্রে নরম নীতির যুগ শেষ। এখন কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেই রাজ্য সরকারের এই অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ। আগে বিদেশি শনাক্ত হলে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ, যাচাই-বাছাই এবং দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। তবে এখন সেই প্রক্রিয়া আর অনুসরণ করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখন কাউকে বিদেশি ঘোষণা করা হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে উচ্ছেদ করা হবে। আমরা আর আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় থাকব না।’
উন্নয়নের পাশাপাশি আসামের পরিচয় রক্ষা করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিচয় রক্ষা না করতে পারলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়ে। রাজ্যের স্বকীয়তা বজায় রাখা আমাদের শাসননীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
এর আগে এক অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে রাজ্যটি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে’। তার এই মন্তব্য প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিজেপি আসামে ভোটব্যাংক সংহত করার কৌশল নিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a Reply