ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশে ১৭ বছর পর সবচেয়ে সুন্দর, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। লন্ডনের খ্যাতনামা নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে ড. ইউনূস বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গণতন্ত্রের বিকাশ ও আসন্ন নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “জনগণ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতিহাসে এমন সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমরা এর আগে দেখিনি, এবার সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির কারণেই আসন্ন নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী। এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চ্যাথাম হাউসের মূল হলে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। উত্তরে ড. ইউনূস দেশের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিক তুলে ধরেন।
এদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ইউনূস সাক্ষাৎ করেন চ্যাথাম হাউসের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের পরিচালক বেন ব্ল্যান্ড ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. চিয়েটিজ বাজপাইয়ের সঙ্গে। সেখানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়নের ধারা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এছাড়া সফরের দ্বিতীয় দিনে ইউনূস বৈঠক করেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলের সঙ্গে। আলোচনা হয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর এবং বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও আগ্রহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
Reporter Name 















