বিজ্ঞপ্তি :
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প
সংবাদ শিরোনাম:
ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগোল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান স্বৈরাচার শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত রাজনীতি করে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’: ফয়জুল করীম একাত্তরের জামায়াত ও বর্তমান জামায়াত এক নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে পহেলা মে এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে রসদ সরবরাহ শুরু, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ইতিহাসের মে দিবস, বর্তমানেও অধিকার আদায়ের লড়াই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, অবরোধ বহাল রাখলেন ট্রাম্প




আকাশে কালো ধোঁয়ার বিষ

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 02:33:48 am, Saturday, 12 January 2019
  • 3 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ইমতিয়াজুর রহমান।।ভোলা থেকে : ভোলার চরফ্যাশনে আকাশে উড়ছে কুণ্ডিলী পাকানো কার্বন-ড্রাই-অক্সাইড মিশ্রিত কালো ধোঁয়ার বিষ। ইটভাটার ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে চারদিক। এতে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। ইটভাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সোনা ফলানো মাটি। ভাটার তপ্ত আগুনে পুড়ছে এখানকার উর্বর মাটি।

 

 

নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে দো-ফসলি ও তিন ফসলি জমির ওপর গড়ে উঠছে প্রায় ৩২টি ইটভাটা। আর এতে জমিতে ফসল বিপর্যয়ের শঙ্কায় প্রান্তিক কৃষকরা। অথচ এত কিছুর পরও হাত গুটিয়ে বসে আছে প্রশাসন।

 

পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভ‚মি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ২০০১ সালের (সংশোধিত) ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ঘনবসতি এলাকার আবাদি জমিতে ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

 

কিন্তু চরফ্যাশন উপজেলার ৩২টি ইটভাটার মধ্যে ২৭টিরই সরকারি অনুমোদন নেই। উপক‚লজুড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্র নিয়ন্ত্রণে ম্যানগ্রোভ সৃজনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি ইটভাটার কাঠের জোগান দিতে ম্যানগ্রোভ বাগান উজার করার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে ভাটা মালিকরা।

 

 

উপজেলার কাঠ নির্ভর ২৮টি অনুমোদন বিহীন ইটভাটার জ্বালানির জোগান দিতে উপক‚লের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার একুশটি ইউনিয়নে ৩২টি ইটভাটার মধ্যে পাঁচটির অনুমোদন রয়েছে। আর বাকি ২৭টি ইটভাটার কোনো অনুমোদনই নেই। সেসব ভাটার মালিকরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইন বহিভর্‚ত বিধায় অনুমোদন দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

 

 

এদিকে এ.অভি, উপক‚ল, মাইশা-১, মাহাজন-১ এবং চমকসহ এই পাঁচটি ভাটার ইট পোড়ানোর ছাড়পত্র নিয়ে পরিচালিত হয়ে থাকলেও বাকি ২৭ ইটভাটার কোনোটিই নিয়ম নীতি মানছে না।

 

 

 

এ সব ভাটার ব্যারেল ও বালি দিয়ে তৈরি চিমনি বিধায় ইটভাটাকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

 

 

এখন অনুমোদন না থাকলেও ভাটা মালিকরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ইটভাটাগুলোর অবৈধ উৎপাদন ও বিপণন অব্যাহত আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অবৈধ অধিকাংশ ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি নেই। ভাটাগুলোর বেশিরভাগই স্থাপিত হয়েছে ঘনবসতি এলাকায়।

 

 

লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং ব্যারেল চিমনি ব্যবহার করায় এসব এলাকার অনেক মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন।

 

 

ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, অবৈধ ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে। অচিরেই জেলার সব কয়টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালিত হবে।

 

 

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন বলেন, জনবসতি এলাকার ফসলি জমিতে ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

ইরান উত্তেজনার মধ্যে মিত্রদের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আকাশে কালো ধোঁয়ার বিষ

প্রকাশের সময় : 02:33:48 am, Saturday, 12 January 2019

ইমতিয়াজুর রহমান।।ভোলা থেকে : ভোলার চরফ্যাশনে আকাশে উড়ছে কুণ্ডিলী পাকানো কার্বন-ড্রাই-অক্সাইড মিশ্রিত কালো ধোঁয়ার বিষ। ইটভাটার ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে চারদিক। এতে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। ইটভাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সোনা ফলানো মাটি। ভাটার তপ্ত আগুনে পুড়ছে এখানকার উর্বর মাটি।

 

 

নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে দো-ফসলি ও তিন ফসলি জমির ওপর গড়ে উঠছে প্রায় ৩২টি ইটভাটা। আর এতে জমিতে ফসল বিপর্যয়ের শঙ্কায় প্রান্তিক কৃষকরা। অথচ এত কিছুর পরও হাত গুটিয়ে বসে আছে প্রশাসন।

 

পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে ভ‚মি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন ও ২০০১ সালের (সংশোধিত) ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ঘনবসতি এলাকার আবাদি জমিতে ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

 

কিন্তু চরফ্যাশন উপজেলার ৩২টি ইটভাটার মধ্যে ২৭টিরই সরকারি অনুমোদন নেই। উপক‚লজুড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্র নিয়ন্ত্রণে ম্যানগ্রোভ সৃজনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পাশাপাশি ইটভাটার কাঠের জোগান দিতে ম্যানগ্রোভ বাগান উজার করার প্রতিযোগিতা শুরু করেছে ভাটা মালিকরা।

 

 

উপজেলার কাঠ নির্ভর ২৮টি অনুমোদন বিহীন ইটভাটার জ্বালানির জোগান দিতে উপক‚লের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ প্রকৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার একুশটি ইউনিয়নে ৩২টি ইটভাটার মধ্যে পাঁচটির অনুমোদন রয়েছে। আর বাকি ২৭টি ইটভাটার কোনো অনুমোদনই নেই। সেসব ভাটার মালিকরা কয়েক দফা আবেদন করলেও পরিবেশ আইন বহিভর্‚ত বিধায় অনুমোদন দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

 

 

এদিকে এ.অভি, উপক‚ল, মাইশা-১, মাহাজন-১ এবং চমকসহ এই পাঁচটি ভাটার ইট পোড়ানোর ছাড়পত্র নিয়ে পরিচালিত হয়ে থাকলেও বাকি ২৭ ইটভাটার কোনোটিই নিয়ম নীতি মানছে না।

 

 

 

এ সব ভাটার ব্যারেল ও বালি দিয়ে তৈরি চিমনি বিধায় ইটভাটাকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক ইট পোড়ানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

 

 

এখন অনুমোদন না থাকলেও ভাটা মালিকরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ইটভাটাগুলোর অবৈধ উৎপাদন ও বিপণন অব্যাহত আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অবৈধ অধিকাংশ ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি নেই। ভাটাগুলোর বেশিরভাগই স্থাপিত হয়েছে ঘনবসতি এলাকায়।

 

 

লোকালয়ে অবস্থিত হওয়ায় এবং ব্যারেল চিমনি ব্যবহার করায় এসব এলাকার অনেক মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন।

 

 

ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, অবৈধ ভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে। অচিরেই জেলার সব কয়টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালিত হবে।

 

 

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন বলেন, জনবসতি এলাকার ফসলি জমিতে ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।