অবশেষে লাশ হয়ে ফিরলেন নববধূ সুইটি,নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ জন

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 03:19:31 pm, Monday, 9 March 2020
  • 2 সংবাদটি দেখা হয়েছে




ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ রাজশাহীর পদ্মা নদীতে বর-কনেবাহী দুটি নৌকাডুবিতে নিখোঁজ থাকা নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণির (১৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৯ জনে দাঁড়ালো।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পদ্মার শ্যামনগর এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কনে পূর্ণি রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে। দেড় মাস আগে পদ্মার ওপারে একই উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে রুমন আলীর (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রব বলেন, নববধূ সুইটির মরদেহ উদ্ধারের মধ্যদিয়ে তাদের চারদিনের উদ্ধার অভিযান শেষ হতে যাচ্ছে। রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শুক্রবার (৬ মার্চ) নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নয়জনের মধ্যে কেবল সুইটির মরদেহই পাওয়া যাচ্ছিলাম না। সোমবার সকালে সুইটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় অন্য কেউ আর অবশিষ্ট রইল না। আর ঘটনার পর বিভিন্নভাবে উদ্ধার হয়ে এসেছেন আরও ৩২ জন। এর আগে এ ঘটনায় রোববার আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া আরও যাদের মরদেহ পাওয়া গেছে, তারা হলেন- কনে পূর্ণির ফুফাতো বোন রুবাইয়া আক্তার স্বর্ণার (১৩), পূর্ণির চাচা শামীম হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মনি খাতুন (৩০), তাদের মেয়ে রশ্মি খাতুন (৭), কনের খালাতো ভাই এখলাস হোসেন (২৮), দুলাভাই রতন আলী (৩০) এবং তার মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৬)।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় মাঝপদ্মায় ডুবে যায় বর-কনে ও তাদের স্বজন মিলে ৫০ জনকে বহনকারী দুটি নৌকা। তখন থেকেই ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। উদ্ধারকাজ দেখতে রোববারও দিনভর অসংখ্য মানুষ পদ্মাপারে ভিড় করেন। ছিলেন নিহতদের স্বজনরাও। এ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম জানিয়েছেন, অতিরিক্ত যাত্রীর কারণেই রাজশাহীর পদ্মায় বর-নববধূকে বহন করা নৌকা ডুবেছে। মূলত এই কারণটি উল্লেখ করেই জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

অবশেষে লাশ হয়ে ফিরলেন নববধূ সুইটি,নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ জন

প্রকাশের সময় : 03:19:31 pm, Monday, 9 March 2020

ভয়েস অব বরিশাল ডেস্ক॥ রাজশাহীর পদ্মা নদীতে বর-কনেবাহী দুটি নৌকাডুবিতে নিখোঁজ থাকা নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণির (১৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৯ জনে দাঁড়ালো।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পদ্মার শ্যামনগর এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কনে পূর্ণি রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙেরহাট গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে। দেড় মাস আগে পদ্মার ওপারে একই উপজেলার চরখিদিরপুর গ্রামের ইনসার আলীর ছেলে রুমন আলীর (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রব বলেন, নববধূ সুইটির মরদেহ উদ্ধারের মধ্যদিয়ে তাদের চারদিনের উদ্ধার অভিযান শেষ হতে যাচ্ছে। রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শুক্রবার (৬ মার্চ) নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নয়জনের মধ্যে কেবল সুইটির মরদেহই পাওয়া যাচ্ছিলাম না। সোমবার সকালে সুইটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় অন্য কেউ আর অবশিষ্ট রইল না। আর ঘটনার পর বিভিন্নভাবে উদ্ধার হয়ে এসেছেন আরও ৩২ জন। এর আগে এ ঘটনায় রোববার আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া আরও যাদের মরদেহ পাওয়া গেছে, তারা হলেন- কনে পূর্ণির ফুফাতো বোন রুবাইয়া আক্তার স্বর্ণার (১৩), পূর্ণির চাচা শামীম হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মনি খাতুন (৩০), তাদের মেয়ে রশ্মি খাতুন (৭), কনের খালাতো ভাই এখলাস হোসেন (২৮), দুলাভাই রতন আলী (৩০) এবং তার মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৬)।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় মাঝপদ্মায় ডুবে যায় বর-কনে ও তাদের স্বজন মিলে ৫০ জনকে বহনকারী দুটি নৌকা। তখন থেকেই ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। উদ্ধারকাজ দেখতে রোববারও দিনভর অসংখ্য মানুষ পদ্মাপারে ভিড় করেন। ছিলেন নিহতদের স্বজনরাও। এ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম জানিয়েছেন, অতিরিক্ত যাত্রীর কারণেই রাজশাহীর পদ্মায় বর-নববধূকে বহন করা নৌকা ডুবেছে। মূলত এই কারণটি উল্লেখ করেই জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে।