শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন ২২ মার্চ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে তারা অনলাইন পোর্টাল এবং আইপিটিভি সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। কমিশনের মতে, বর্তমান অনলাইন নীতিমালায় আইপিটিভি এবং অনলাইন পোর্টালগুলোর সংবাদ বুলেটিন সম্প্রচার নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বাতিল করা উচিত। এছাড়াও, কমিশন অনলাইন পোর্টালগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সাতটি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে।
কমিশন জানায়, বর্তমানে অনলাইন পোর্টালগুলোর বিকাশের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই হলুদ সাংবাদিকতা, অনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিং, নাগরিক হয়রানি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি, সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য অস্বাভাবিক প্রতিকূলতা তৈরি হচ্ছে। তারা দাবি করে, বিগত সরকারের অনলাইন নীতিমালা কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে, এবং এই নীতিমালাকে পর্যালোচনা করে বাস্তবানুগ ও কার্যোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেন, ‘কিন্তু নিবন্ধনহীন পোর্টালগুলো বন্ধের জন্য হাইকোর্টের যে নির্দেশনা ছিল তা কার্যকর হয়নি।’ তারা সুপারিশ করেছে যে, অনলাইন পোর্টালগুলোর গণমাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি থাকা প্রয়োজন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সম্পাদকীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত দশকে যেসব অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধন পেয়েছে, সেগুলোর পর্যালোচনা প্রয়োজন, কারণ সেগুলো সরকারের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছে। এই পর্যালোচনার দায়িত্ব স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের ওপর অর্পণ করা উচিত।
কমিশনের সাত দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, অনলাইন পোর্টাল নিবন্ধনের নীতিমালা হালনাগাদ করা, একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার তদন্ত ব্যবস্থা বাতিল করা, এবং বার্ষিক নবায়ন পদ্ধতি বাতিল করা। এছাড়া, কমিশন অনলাইন পোর্টালের জন্য সরকারি বিজ্ঞাপন নীতিমালা নির্দিষ্ট করে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত এই সুপারিশগুলো দেশে গণমাধ্যমের উন্নয়ন এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Reply