ঐতিহ্যবাহী বন্দর কলসকাঠী প্রবেশের সড়ক বেহাল,জনভোগান্তি

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 11:25:18 pm, Wednesday, 19 September 2018
  • 41 সংবাদটি দেখা হয়েছে




বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বন্দর কলসকাঠী বাজারে প্রবেশের সরকটি এখন সাধারণ ব্যবসয়ী এবং এলাকাবাসীর জন্য মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ সরকটির এ সড়কটির বেহাল দশা। রাস্তটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকার সচেতন মহল। উপজেলার কলসকাঠী বাজার এশটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এখানে সপ্তাহে দুই দিন প্রতি সনি ও মঙ্গলবার হাট বসে। এ ছাড়াও প্রতিদিন সকাল- বিকাল বাজার করার জন্য বিভিন্ন পেশার মানুষ চলাফেরা করে। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ ও কাচামাল কিনতে প্রতিদিন ক্রেতারা আসেন। বাকেরগঞ্জ-কলসকাঠী পাকা সরকের সাথে বাজারটি হলেও বাজারে ঢোকার রাস্তাটি একবারে ভেঙে গেছে। ফলে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে মালবহী পিকআপ ভ্যান, ট্রাক, কার্ভাডভ্যান, বিকল্প ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন।

ফলে ব্যবসায়ীরা কাচামাল ও অন্যান্য মালামাল আনানেয়া করতে গিয়ে মারাতœক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই মালামাল পরিবহনকারী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া বাজারে আসা ক্রেতারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই বাজার থেকে প্রতি বছর সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হলেও রাস্তাটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার হাজার হাজার মানুষকে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার তুলাতলা নদীর উপর নবগঠিত ব্রিজটি ওপাড়ে দশটি ইউনিয়নের সাথে সংযোগ হয়েছে। কিন্ত ঐতিহ্যবাহী বন্দর কলসকাঠী প্রবেশের সরকটি ভেঙেচুরে বেহাল হওয়ায় মারাতœক জনভোগান্তি হচ্ছে। উপজেলার বড় ব্যবসয়ী বন্দর কলসকাঠীর হাজার হাজার মানুষের প্রানের দাবি ছিলো তুলাতলা নদীর ব্রিজ। বহু দিন প্রতিক্ষার পর ব্রিজ হয়েছে ঠিকই কিন্ত রাস্তা ভেঙেচুরে যাওয়ায় সে সুফল নিতে পারছেনা কলসকাঠী বাসি। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ গাড়ি নিয়ে তাদের ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। উপজেলার খাদ্যগুদাম কলসকাঠী বন্দরে থাকায় এখান থেকে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় সরকারি বরাদ্ব মাল পাঠাতে হচ্ছে। এ ছাড়া জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, পোস্ট অফিস, ভুমি অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় চলাচল করতে হয়।

এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি এ ভাঙা রাস্তাটি সংস্কার হলে এলাকাবাসীর জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন ঘটবে। কলসকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরুন কুমার গাঙ্গুলী বলেন কলসকাঠী বাজার প্রবেশের রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য এ রাস্তাটি একমাত্র পথ। তিনি দ্রুত রাস্তাটি নির্মানের জন্য ওপর মহলের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছেন। তিনি আরো বলেন আমার বিদ্যালয়ের ৬৫০ জন ছাত্রীর অর্ধেকের বেশি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। তাদের বর্ষা মওসুমে দুর্ভোগের শেষ নেই। কলসকাঠীর বিশিষ্ট ব্যবসয়ী সৈয়দ কবির হোসেন জানান আমাদের কাঙ্খিত তুলাতলা নদীর ব্রিজ হয়েছে কিন্ত বাজার প্রবেশ মুখের সরকটির কাজ করা জরুরি হয়ে পড়ছে। কারন কলসকাঠী থেকে মুদি মালসহ বিভিন্ন কাচা মাল পাইকারেরা কিনতে আসেন। রাস্তাটি বেহাল দশার ফলে ঘটছে একর পর এক দুর্ঘটনা। ফলে ব্যবসায়ীরা মালামাল আনানেয়া করতে গিয়ে মারাতœক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই মালামাল পরিবহনকারী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পেতে ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বর্থে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের স্বার্থে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন কলসকাঠী বাজারের ব্যবসায়ীরা। কলসকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আমাদের ইউনিয়নে এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে বাজারে আসছেন এবং জেলা প্রশাসক কে রাস্তার বিষয় জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বলেছেন রাস্তটি আমি দেখেছি এবং জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাস্তাটির বিষয় উপস্থাপন করবেন বলে জানান। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী সালেহ মুস্তানজির বলেন কলসকাঠী বাজার প্রবেশ সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বলেন গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা কলসকাঠী গান্ধী আশ্রম পরিদর্শনে আসছিলেন। তখন এই ভাঙা রাস্তার করুন অবস্তা দেখেছি এবং মানুষের চলাচলের মারাতœক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তাও দেখছি। তিনি দ্রুত রাস্তটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে অবহীত করবেন বলে জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

ঐতিহ্যবাহী বন্দর কলসকাঠী প্রবেশের সড়ক বেহাল,জনভোগান্তি

প্রকাশের সময় : 11:25:18 pm, Wednesday, 19 September 2018

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বন্দর কলসকাঠী বাজারে প্রবেশের সরকটি এখন সাধারণ ব্যবসয়ী এবং এলাকাবাসীর জন্য মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ সরকটির এ সড়কটির বেহাল দশা। রাস্তটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকার সচেতন মহল। উপজেলার কলসকাঠী বাজার এশটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এখানে সপ্তাহে দুই দিন প্রতি সনি ও মঙ্গলবার হাট বসে। এ ছাড়াও প্রতিদিন সকাল- বিকাল বাজার করার জন্য বিভিন্ন পেশার মানুষ চলাফেরা করে। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ ও কাচামাল কিনতে প্রতিদিন ক্রেতারা আসেন। বাকেরগঞ্জ-কলসকাঠী পাকা সরকের সাথে বাজারটি হলেও বাজারে ঢোকার রাস্তাটি একবারে ভেঙে গেছে। ফলে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে মালবহী পিকআপ ভ্যান, ট্রাক, কার্ভাডভ্যান, বিকল্প ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন।

ফলে ব্যবসায়ীরা কাচামাল ও অন্যান্য মালামাল আনানেয়া করতে গিয়ে মারাতœক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই মালামাল পরিবহনকারী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া বাজারে আসা ক্রেতারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই বাজার থেকে প্রতি বছর সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হলেও রাস্তাটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার হাজার হাজার মানুষকে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার তুলাতলা নদীর উপর নবগঠিত ব্রিজটি ওপাড়ে দশটি ইউনিয়নের সাথে সংযোগ হয়েছে। কিন্ত ঐতিহ্যবাহী বন্দর কলসকাঠী প্রবেশের সরকটি ভেঙেচুরে বেহাল হওয়ায় মারাতœক জনভোগান্তি হচ্ছে। উপজেলার বড় ব্যবসয়ী বন্দর কলসকাঠীর হাজার হাজার মানুষের প্রানের দাবি ছিলো তুলাতলা নদীর ব্রিজ। বহু দিন প্রতিক্ষার পর ব্রিজ হয়েছে ঠিকই কিন্ত রাস্তা ভেঙেচুরে যাওয়ায় সে সুফল নিতে পারছেনা কলসকাঠী বাসি। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ গাড়ি নিয়ে তাদের ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। উপজেলার খাদ্যগুদাম কলসকাঠী বন্দরে থাকায় এখান থেকে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় সরকারি বরাদ্ব মাল পাঠাতে হচ্ছে। এ ছাড়া জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, পোস্ট অফিস, ভুমি অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় চলাচল করতে হয়।

এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি এ ভাঙা রাস্তাটি সংস্কার হলে এলাকাবাসীর জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন ঘটবে। কলসকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরুন কুমার গাঙ্গুলী বলেন কলসকাঠী বাজার প্রবেশের রাস্তাটি দীর্ঘ দিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য এ রাস্তাটি একমাত্র পথ। তিনি দ্রুত রাস্তাটি নির্মানের জন্য ওপর মহলের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছেন। তিনি আরো বলেন আমার বিদ্যালয়ের ৬৫০ জন ছাত্রীর অর্ধেকের বেশি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। তাদের বর্ষা মওসুমে দুর্ভোগের শেষ নেই। কলসকাঠীর বিশিষ্ট ব্যবসয়ী সৈয়দ কবির হোসেন জানান আমাদের কাঙ্খিত তুলাতলা নদীর ব্রিজ হয়েছে কিন্ত বাজার প্রবেশ মুখের সরকটির কাজ করা জরুরি হয়ে পড়ছে। কারন কলসকাঠী থেকে মুদি মালসহ বিভিন্ন কাচা মাল পাইকারেরা কিনতে আসেন। রাস্তাটি বেহাল দশার ফলে ঘটছে একর পর এক দুর্ঘটনা। ফলে ব্যবসায়ীরা মালামাল আনানেয়া করতে গিয়ে মারাতœক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই মালামাল পরিবহনকারী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পেতে ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বর্থে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের স্বার্থে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন কলসকাঠী বাজারের ব্যবসায়ীরা। কলসকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আমাদের ইউনিয়নে এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে বাজারে আসছেন এবং জেলা প্রশাসক কে রাস্তার বিষয় জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বলেছেন রাস্তটি আমি দেখেছি এবং জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাস্তাটির বিষয় উপস্থাপন করবেন বলে জানান। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী সালেহ মুস্তানজির বলেন কলসকাঠী বাজার প্রবেশ সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বলেন গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা কলসকাঠী গান্ধী আশ্রম পরিদর্শনে আসছিলেন। তখন এই ভাঙা রাস্তার করুন অবস্তা দেখেছি এবং মানুষের চলাচলের মারাতœক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তাও দেখছি। তিনি দ্রুত রাস্তটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে অবহীত করবেন বলে জানান।