বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদ্যাপনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সংগঠন স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ন্যায়বিচার, সমতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংস আক্রমণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের এটি প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রথমবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দিবস উপলক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে ৩১ বার তোপধ্বনি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নজরদারির জন্য স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বনির্ভর ও কর্মমুখর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। জাতীয় ঐক্য, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও স্বাধীনতার মূল্যবোধ বাস্তবায়নের দাবি উঠে এসেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে রাষ্ট্রের নীতিগত ও পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরি। তিনি দাবি করেন, অতীতে সংবিধানের কাঠামোর ভেতরেও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের নজির তৈরি হয়েছিল এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পার হলেও সাধারণ মানুষ এখনো স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পুরোপুরি পায়নি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিকালে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই-পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল ও ব্যান্ড ওয়ারফেজের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার স্বাধীনতা দিবসে দেশব্যাপী আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও তোরণ ও ব্যানার স্থাপন থেকে বিরত থাকা হয়েছে।
রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়—বরং স্বাধীনতার আদর্শ বাস্তবায়ন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্যের নতুন অঙ্গীকারের দিন হিসেবে জাতির সামনে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা নিয়ে এসেছে।
Leave a Reply