বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদে গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ এবং ইকোসিস্টেম সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
গবেষণা পরিচালিত হয় ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ জাহাজের মাধ্যমে। আট দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি। এই জরিপে নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণী পাওয়া গেছে। তবে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের অতিরিক্ত আধিক্য ও ২ হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিক পাওয়া গভীর উদ্বেগের।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের তুলনায় বড় মাছের সংখ্যা কমেছে, স্বল্প গভীরে মাছের অভাবও বেড়ে চলেছে। এছাড়া ২৭০–২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ করছে, যার মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ ব্যবহার করে অত্যন্ত আগ্রাসী ফিশিং করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এর ফলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ এখনও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। পর্যাপ্ত গবেষণা, নীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ ভেসেল শীঘ্রই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরিত হবে।
ড. ইউনূস জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সাথে যৌথ গবেষণা সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক সম্পদকে বাণিজ্যিক ও পরিবেশগতভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
Leave a Reply