মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ভোলা পৌরসভার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্রনেতা ও আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে বিবি সাওদাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আদালতে উপস্থাপন করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক জুয়েল হোসেন খান আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ‘Sawoda Sumi’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে সরকার, রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক পোস্ট করা হয়। সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত Redmi Note 9 মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফোনটি তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। ডাকসু ভিপি আবু সাদিক বলেন, মধ্যরাতে বাসা থেকে একজন নারীকে আটক করা ভিন্নমত দমনের ইঙ্গিত দেয়। ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির তার পোস্টে ঘটনাটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নেতা আব্দুল কাদের সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এটিকে স্বেচ্ছাচারিতার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার রাষ্ট্র কেড়ে নিতে পারে না।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারও বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানায়। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply