ভোটের মাঠে জোয়ার আনতে লঞ্চে বরিশাল আসবেন কাদের

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 12:31:57 pm, Monday, 24 September 2018
  • 107 সংবাদটি দেখা হয়েছে

কাদের




অনলাইন ডেস্ক ||
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠে ব্যস্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কম যাচ্ছে না ১৪ দল ও মহাজোটের শরিকরাও। পাল্লা দিয়ে ভোট চাইতে মাঠে নেমে পড়েছেন দলগুলোর নেতারা। এদিকে চেয়ারপারসনের মুক্তি, জোটগঠনে দৌড়-ঝাপ আর নির্বাচনী দাবি আদায়ে ব্যস্ত বিএনপি। এতে অনেকটা ওয়াকওভার পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই সুযোগে নির্বাচনী মাঠে গোল দিতে তৎপর ক্ষমতাসীন দলটি।

আওয়ামী লীগ চায় বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে এই জোটগঠন আর দাবি-দাওয়ার মধ্যে ব্যস্ত রাখতে। আর এই সুযোগে নিজেদের পুরো প্রস্তুতি শেষ করে ভোটে বাজিমাত করবে তারা। যদিও রাজনীতির শেষ সমীকরণের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের তিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করে নামেন ভোটের মাঠে। ৩০ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পূণ্যভূমি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম।’ এসময় তিনি উপস্থিত জনতাকে নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য শপথ করান। এরপর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সফর করে ভোট চান।

শোকের মাসসহ নানা কারণে নির্বাচনী সফর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বন্ধ থাকলেও অক্টোবর থেকে আবার সফর শুরু করবেন শেখ হাসিনা। ১১ অক্টোবর ময়মনসিংহে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে বিমান, ট্রেন ও বাসে একাধারে সিলেট, উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রামে সফর করছে দলটির নেতারা। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নির্বাচনী পথসভা করেছেন তারা। এরপর বরিশাল অঞ্চলে নৌপথেও সফর করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এতে ভোটের মাঠে নতুন জোয়ার আসবে। দলের কর্মীদের মধ্যকার হতাশা বা ক্ষোভ, অনৈক্য দূর হবে। জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে যাবে। আন্দোলন দাঁড় করাতে না পেরে শেষ মুহূর্তে তালগোল পাকিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী জোটে হতাশা নামবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। তৃণমূলে সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও দলীয় কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতিই মূল লক্ষ্য।’

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নির্বাচনী দাবি-দাওয়া এবং চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলন নিয়েই পার করেছে বছর। জোটগঠন আর হাঁকডাকে কেটেছে সময়। আওয়ামী ঘরনার এবং বিএনপি ছেড়ে যাওয়াদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতেও বেশ হিমশিম খাচ্ছে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের মাধ্যমে এক ধাপ এগোনোর কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তা কতদূর এগোবে সেই সংশয় কাটেনি। আওয়ামী লীগের লোভনীয় অফার কিংবা চাপ সামলে জাতীয় ঐক্যের নেতারা নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এরমধ্যে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রথম সংবাদ সম্মলনে যোগ না দিয়ে মাঝপথে বাসায় ফিরে গেলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে তোড়ঝোড় করা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা কাদের সিদ্দিকী ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্য বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্বপ্ন অনেক আগেই ভেঙে গেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাও তার স্বপ্ন ভাঙ্গার কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াদের ষড়যন্ত্রের জাতীয় ঐক্যেরও স্বপ্ন ভাঙবে।’

অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, অবস্থা বুঝে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলে এনিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রাজনৈতিক এতিমরা এক হয়েছে, হোক। তাদের এই ঐক্যে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি।

আপতত রাজনীতির মাঠে বিরোধীদের অন্য ইস্যুতে ব্যস্ত রেখে ভেতরে ভেতরে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি, আভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো, আসনে আসনে নির্বাচনী কমিটি গঠন ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করছে দলটি। দৃশ্যতঃ বিরোধীদের ব্যস্ত রেখে ভোটের ফল নিজেদের করে নেয়ার কৌশলেই এগোচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

ভোটের মাঠে জোয়ার আনতে লঞ্চে বরিশাল আসবেন কাদের

প্রকাশের সময় : 12:31:57 pm, Monday, 24 September 2018

অনলাইন ডেস্ক ||
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠে ব্যস্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কম যাচ্ছে না ১৪ দল ও মহাজোটের শরিকরাও। পাল্লা দিয়ে ভোট চাইতে মাঠে নেমে পড়েছেন দলগুলোর নেতারা। এদিকে চেয়ারপারসনের মুক্তি, জোটগঠনে দৌড়-ঝাপ আর নির্বাচনী দাবি আদায়ে ব্যস্ত বিএনপি। এতে অনেকটা ওয়াকওভার পাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই সুযোগে নির্বাচনী মাঠে গোল দিতে তৎপর ক্ষমতাসীন দলটি।

আওয়ামী লীগ চায় বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে এই জোটগঠন আর দাবি-দাওয়ার মধ্যে ব্যস্ত রাখতে। আর এই সুযোগে নিজেদের পুরো প্রস্তুতি শেষ করে ভোটে বাজিমাত করবে তারা। যদিও রাজনীতির শেষ সমীকরণের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটের তিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করে নামেন ভোটের মাঠে। ৩০ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পূণ্যভূমি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম।’ এসময় তিনি উপস্থিত জনতাকে নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য শপথ করান। এরপর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সফর করে ভোট চান।

শোকের মাসসহ নানা কারণে নির্বাচনী সফর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বন্ধ থাকলেও অক্টোবর থেকে আবার সফর শুরু করবেন শেখ হাসিনা। ১১ অক্টোবর ময়মনসিংহে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে বিমান, ট্রেন ও বাসে একাধারে সিলেট, উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রামে সফর করছে দলটির নেতারা। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নির্বাচনী পথসভা করেছেন তারা। এরপর বরিশাল অঞ্চলে নৌপথেও সফর করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এতে ভোটের মাঠে নতুন জোয়ার আসবে। দলের কর্মীদের মধ্যকার হতাশা বা ক্ষোভ, অনৈক্য দূর হবে। জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে যাবে। আন্দোলন দাঁড় করাতে না পেরে শেষ মুহূর্তে তালগোল পাকিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী জোটে হতাশা নামবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। তৃণমূলে সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও দলীয় কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতিই মূল লক্ষ্য।’

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নির্বাচনী দাবি-দাওয়া এবং চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলন নিয়েই পার করেছে বছর। জোটগঠন আর হাঁকডাকে কেটেছে সময়। আওয়ামী ঘরনার এবং বিএনপি ছেড়ে যাওয়াদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতেও বেশ হিমশিম খাচ্ছে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের মাধ্যমে এক ধাপ এগোনোর কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তা কতদূর এগোবে সেই সংশয় কাটেনি। আওয়ামী লীগের লোভনীয় অফার কিংবা চাপ সামলে জাতীয় ঐক্যের নেতারা নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে ইতোমধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এরমধ্যে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রথম সংবাদ সম্মলনে যোগ না দিয়ে মাঝপথে বাসায় ফিরে গেলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে তোড়ঝোড় করা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা কাদের সিদ্দিকী ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্য বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্বপ্ন অনেক আগেই ভেঙে গেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাও তার স্বপ্ন ভাঙ্গার কথা বলেছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াদের ষড়যন্ত্রের জাতীয় ঐক্যেরও স্বপ্ন ভাঙবে।’

অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, অবস্থা বুঝে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলে এনিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রাজনৈতিক এতিমরা এক হয়েছে, হোক। তাদের এই ঐক্যে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি।

আপতত রাজনীতির মাঠে বিরোধীদের অন্য ইস্যুতে ব্যস্ত রেখে ভেতরে ভেতরে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি, আভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো, আসনে আসনে নির্বাচনী কমিটি গঠন ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করছে দলটি। দৃশ্যতঃ বিরোধীদের ব্যস্ত রেখে ভোটের ফল নিজেদের করে নেয়ার কৌশলেই এগোচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।