‘দুইডা গোশত দিবেন নি…’

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 07:45:29 pm, Wednesday, 22 August 2018
  • 73 সংবাদটি দেখা হয়েছে




অনলাইন ডেস্ক:পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। রাজধানীতে সকাল থেকেই পশু কোরবানি দিয়েছেন সামর্থবান মুসল্লিরা। তার মধ্যে দুপুরের পর থেকে নিম্নবিত্তরা ঢাকার বিভিন্ন বাসায় গিয়ে গিয়ে কোরবানির গোশত চেয়ে নিচ্ছিলেন।

আজ বুধবার দুপুরের পর রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ, ২ নম্বর মসজিদ মার্কেট, পল্লবী, সেনপাড়া পর্বতা, টিকাটুলি, ধানমন্ডি, মিরপুর ৬ নম্বর, মিরপুর ১১ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিম্নবিত্তরা গোশত নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বাসাবাড়িতে যান।

টোলারবাগে আলেয়া বেগম নামের এক নারীকে দেখা যায়, তিনি এক অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে বলছেন, ‘দুইডা গোশত দিবেন নি ভাই।’ এর পর তাঁকে গোশত দেওয়া শুরু করলে আরও ১০/১৫ জন গোশত নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন।

আলেয়া বেগম এ বিষয়ে  বলেন, ‘বাইত ( বাড়ি) যাইতাম ফারি (পারি) নাই। ঈদের দিন দুইডা গোশত দিয়া বাসায় ভাত খামু। হের (সে) লাইগ্গা (জন্য) দুপ্পুর (দুপুর) থাইক্কা (থেকে) গোশত টোকাইতাছি।’

এ ছাড়া মিরপুর ২ নম্বরের মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি অ্যাপার্টমেন্টের নিচে দেখা গেছে, লাইন ধরে নিম্নবিত্তরা গোশত নিচ্ছেন।

ওই লাইনে থাকা আলী নামের এক বৃদ্ধ জানান, প্রতি কোরবানির ঈদের সময় তিনি মানুষের বাসায় গিয়ে গিয়ে গোশত সংগ্রহ করেন। কিছুটা নিজের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেন। সেই টাকা দিয়ে বাসায় পোলাওর চাউল ও সেমাই নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

মিনা নামের এক প্রতিবন্ধী নারী জানান, রোজার ঈদে না খেয়ে থাকা হয় বেশি। কোরবানির ঈদে গোশত পেলে তা বাসায় নিয়ে রান্না করে পরিবারের সবাইকে খাওয়ান। এ ছাড়া বাড়তি গোশত বিক্রি করে দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

‘দুইডা গোশত দিবেন নি…’

প্রকাশের সময় : 07:45:29 pm, Wednesday, 22 August 2018

অনলাইন ডেস্ক:পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। রাজধানীতে সকাল থেকেই পশু কোরবানি দিয়েছেন সামর্থবান মুসল্লিরা। তার মধ্যে দুপুরের পর থেকে নিম্নবিত্তরা ঢাকার বিভিন্ন বাসায় গিয়ে গিয়ে কোরবানির গোশত চেয়ে নিচ্ছিলেন।

আজ বুধবার দুপুরের পর রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ, ২ নম্বর মসজিদ মার্কেট, পল্লবী, সেনপাড়া পর্বতা, টিকাটুলি, ধানমন্ডি, মিরপুর ৬ নম্বর, মিরপুর ১১ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিম্নবিত্তরা গোশত নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বাসাবাড়িতে যান।

টোলারবাগে আলেয়া বেগম নামের এক নারীকে দেখা যায়, তিনি এক অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে বলছেন, ‘দুইডা গোশত দিবেন নি ভাই।’ এর পর তাঁকে গোশত দেওয়া শুরু করলে আরও ১০/১৫ জন গোশত নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন।

আলেয়া বেগম এ বিষয়ে  বলেন, ‘বাইত ( বাড়ি) যাইতাম ফারি (পারি) নাই। ঈদের দিন দুইডা গোশত দিয়া বাসায় ভাত খামু। হের (সে) লাইগ্গা (জন্য) দুপ্পুর (দুপুর) থাইক্কা (থেকে) গোশত টোকাইতাছি।’

এ ছাড়া মিরপুর ২ নম্বরের মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি অ্যাপার্টমেন্টের নিচে দেখা গেছে, লাইন ধরে নিম্নবিত্তরা গোশত নিচ্ছেন।

ওই লাইনে থাকা আলী নামের এক বৃদ্ধ জানান, প্রতি কোরবানির ঈদের সময় তিনি মানুষের বাসায় গিয়ে গিয়ে গোশত সংগ্রহ করেন। কিছুটা নিজের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেন। সেই টাকা দিয়ে বাসায় পোলাওর চাউল ও সেমাই নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।

মিনা নামের এক প্রতিবন্ধী নারী জানান, রোজার ঈদে না খেয়ে থাকা হয় বেশি। কোরবানির ঈদে গোশত পেলে তা বাসায় নিয়ে রান্না করে পরিবারের সবাইকে খাওয়ান। এ ছাড়া বাড়তি গোশত বিক্রি করে দেন।