সংবাদ শিরোনাম:




কলাপাড়ার কুয়াকাটায় সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 05:19:00 pm, Tuesday, 11 June 2019
  • 4 সংবাদটি দেখা হয়েছে




তানজিল জামান জয়,কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ॥  সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লবের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে মৎস্য বন্দর আলিপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাগরকন্যা অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাসির উদ্দিন বিপ্লবসহ ০৬ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয়রা আহতদের করে রাতেই ০৪ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে নাসির বিপ্লবসহ তার কয়েকজন বন্ধু আলীপুর বন্দরের সাগর কন্যা অফিসে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।

এ সময় যুবলীগ নেতা ও কুয়াকাটা পৌর মেয়র বারেক মোল্লার ছেলে মাসুদ মোল্লা, মেয়রের ভাই মোশারেফ মোল্লা, লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেয়রের ভাই আনছার মোল্লা, আনছার মোল্লার ছেলে রাসেল মোল্লার নেতৃত্বে একটি বাহিনী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লবসহ অফিসে থাকা লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

এতে জামাল হোসেন(৩৪), সলেমান ফকির(৩২), চুন্নু হাওলাদার(৩৫), শাকিল খলিফা(২২) ও সবুর মিয়া(২৬) আহত হয়। এছাড়া সন্ত্রাসীরা নাসির উদ্দিন বিপ্লবকে টানা হেচড়া করে শরীরের পোশাক ছিড়ে ফেলে। এসময় স্থানীয়দের ডাকচিৎকারে লোকজন জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়। পরে মহিপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

আহত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লব জানান, সম্প্রতি কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের একটি জনসভায় প্রকাশ্যে মাইকিং করে আনছার মোল্লাকে নির্দেশ দেয় যে, সাংবাদিক নাসিরকে থামাতে হবে। সে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে নানা নিউজ করে রাজনৈতিকভাবে আমাদেরকে হেয় করে আসছে। তার সাংবাদিকতা খেয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে রাজনীতি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি আশংকা করছেন।

মেয়রের পুত্র মাসুদ মোল্লা জানান, আমি ঘটনার সময় লোকমুখে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। আমি এ ছাড়া কিছুই জানিনা। লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, সম্পুর্ন ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক, সালাম গাজিকে মারধর করার বিষয়ে শালিশ বাঞ্চাল করতেই এই মিথ্যাচার। ঘটনা থামাতে গিয়ে ঊল্টো আমি মারধরের শিকার হয়েছি। কুয়াকাটা পৌর মেয়র বারেক মোল্লা জানান, কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি। সামান্য একটু ঝামেলা হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে। কলাপাড়া সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল আহমেদ বলেন, ঘটনা শুনেছি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আহত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লব কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক, যুগান্তরের কুয়াকাটা প্রতিনিধি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাগরকন্যার সম্পাদক, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য।

উল্লেখ্য, কুয়াকাটার পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই শাহ আলমের কেনা কোরাল মাছ জোর করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি এ প্রতিনিধির ওপর ক্ষিপ্ত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী-দেবর আটক

কলাপাড়ার কুয়াকাটায় সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

প্রকাশের সময় : 05:19:00 pm, Tuesday, 11 June 2019

তানজিল জামান জয়,কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ॥  সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লবের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে মৎস্য বন্দর আলিপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাগরকন্যা অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাসির উদ্দিন বিপ্লবসহ ০৬ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয়রা আহতদের করে রাতেই ০৪ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে নাসির বিপ্লবসহ তার কয়েকজন বন্ধু আলীপুর বন্দরের সাগর কন্যা অফিসে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।

এ সময় যুবলীগ নেতা ও কুয়াকাটা পৌর মেয়র বারেক মোল্লার ছেলে মাসুদ মোল্লা, মেয়রের ভাই মোশারেফ মোল্লা, লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেয়রের ভাই আনছার মোল্লা, আনছার মোল্লার ছেলে রাসেল মোল্লার নেতৃত্বে একটি বাহিনী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লবসহ অফিসে থাকা লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

এতে জামাল হোসেন(৩৪), সলেমান ফকির(৩২), চুন্নু হাওলাদার(৩৫), শাকিল খলিফা(২২) ও সবুর মিয়া(২৬) আহত হয়। এছাড়া সন্ত্রাসীরা নাসির উদ্দিন বিপ্লবকে টানা হেচড়া করে শরীরের পোশাক ছিড়ে ফেলে। এসময় স্থানীয়দের ডাকচিৎকারে লোকজন জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়। পরে মহিপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

আহত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লব জানান, সম্প্রতি কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদের একটি জনসভায় প্রকাশ্যে মাইকিং করে আনছার মোল্লাকে নির্দেশ দেয় যে, সাংবাদিক নাসিরকে থামাতে হবে। সে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে নানা নিউজ করে রাজনৈতিকভাবে আমাদেরকে হেয় করে আসছে। তার সাংবাদিকতা খেয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে রাজনীতি করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি আশংকা করছেন।

মেয়রের পুত্র মাসুদ মোল্লা জানান, আমি ঘটনার সময় লোকমুখে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। আমি এ ছাড়া কিছুই জানিনা। লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, সম্পুর্ন ঘটনাটি একটি সাজানো নাটক, সালাম গাজিকে মারধর করার বিষয়ে শালিশ বাঞ্চাল করতেই এই মিথ্যাচার। ঘটনা থামাতে গিয়ে ঊল্টো আমি মারধরের শিকার হয়েছি। কুয়াকাটা পৌর মেয়র বারেক মোল্লা জানান, কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি। সামান্য একটু ঝামেলা হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে। কলাপাড়া সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল আহমেদ বলেন, ঘটনা শুনেছি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আহত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লব কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক, যুগান্তরের কুয়াকাটা প্রতিনিধি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাগরকন্যার সম্পাদক, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য।

উল্লেখ্য, কুয়াকাটার পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই শাহ আলমের কেনা কোরাল মাছ জোর করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি এ প্রতিনিধির ওপর ক্ষিপ্ত হন।