ওসি আওলাদ হোসেনের বদলী আদেশে ‘ উল্লাসে রয়েছে চিহ্নিত অপরাধীরা।

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 02:57:26 pm, Friday, 13 July 2018
  • 713 সংবাদটি দেখা হয়েছে




স্টাফ রিপোর্টার: বরিশালের স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ থানা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুনের বদলী আদেশে থানা এলাকায় স্বস্তি ও অস্বস্তি দুটোই কাজ করছে। শান্তিপ্রিয় নাগরিকের কাছে খবরটি অস্বস্তির হলেও দারুন আনন্দে রয়েছে নিষিদ্ধ পল্লীর মানুষেরা। অপরাধপ্রবণ এলাকায় আবারও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে চিহ্নিত অপরাধীরা। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় খোঁজ-খবর নেওয়া হয়ে গেছে, আওলাদ হোসেনের পরবর্তী ওসি কে আসছেন? তিনি কোন জেলার মানুষ? আর কিভাবে পরবর্তী ওসিকে ম্যানেজ করা যাবে সেই তদ্বিরও করতে ব্যস্ত কয়েকটি চক্র। জানা গেছে, ওসি আওলাদের বদলীর সংবাদের পরপরই নগরীর পোর্টরোড কেন্দ্রীক অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনাকারী হোটেলগুলোতে বাড়তে থাকে দেহপসারীনীদের আনাগোনা।

কুখ্যাত হোটেল জোনাকীতেতো প্রকাশ্যেই শুরু করে দিয়েছিল ব্যবসা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি জোনাকীর। কোতয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে একদিনেই সেখান থেকে ৮ জনকে আটক করে। শুধু জোনাকি নয়, এমন উচ্ছাস দেখা গেছে অন্যান্য হোটেলগুলোতে। ওদিকে মাদকজোন খ্যাত কেডিসি বস্তি, রসুলপুর বস্তি, পলাশপুর-আমানতগঞ্জ, সাগরদী এলাকা, রুপাতলী, চাঁনমারী, নতুনবাজারের চিহ্নিত অপরাধীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। অপরাধীরা প্রহর গুনছেন, কখন আনুষ্ঠানিকভাবে চলে যাবেন আওলাদ হোসেন মামুন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নীতিনির্ধারনি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ওসিদের বদলী ‘রুটিন ওয়ার্ক’।

তবে আওলাদ হোসেন মামুন জানিয়েছেন, বদলী আদেশ পেয়েছেন তিনি। নির্দেশনা এলেই তার পরবর্তী নির্ধারিত কর্মস্থলে চলে যাবেন। বদলী আদেশের বিষয়ে তার পক্ষে-বিপক্ষে কোন বক্তব্য নেই। তবে নাগরিকদের অভিমত, বিগত দিনের পরিবেশ অনেকটাই বদলে ফেলেছেন এই কর্মকর্তা। ‘আওলাদ হোসেন মামুন দায়িত্ব নেওয়ার পরে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় এসে পুলিশী সেবা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ যেমন কমে এসেছে তেমনি জবাবদিহিতা বেড়েছে’ এমনটাই বলছিলেন বাংলাবাজারের বাসিন্দা মশিউর রহমান। স্কুল শিক্ষক মশিউর রহমান আরও বলেন, আমি জীবনে তিনবার থানায় জিডি করার জন্য গিয়েছিলাম।

এরমধ্যে আগের ওসির সময়ে দুবার আর এই ওসির (আওলাদ হোসেন) সময়ে একবার। আগের দুবার জিডি করতে টানা দুইদিন লেগেছে। আর টাকা দিয়েছিলাম ৮০০। কিন্তু এবার জিডি করতে গিয়ে ঘটনা বলার পরপরই জিডি গ্রহন করেন। টাকা দিতে চেয়েছিলাম। নেয়নি ওই কনস্টেবল। মশিউরের ভাষ্যমতে, ওসি সাব’ শুনতে পারলে আস্ত রাখবেন না। জানা গেছে, থানায় সেবার মান বাড়াতে অনেক অফিসারের সাথে দূরত্ব বেড়েছে আওলাদের। থানাসূত্রে জানা গেছে, বিগত দু বছরের সঠিক মনিটরিংয়ে নগরীর আলোচিত ঘটনার ক্লু উদঘাটিত হয়েছে। আবার অপরাধিদের উৎপাত কমে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রয়েছেন নগরবাসী। কমেছে ছিনতাই, ইভটিজিং, জিম্মি করে টাকা আদায়সহ চুরি ও প্রতারণার হার।

কমিউনিটি পুলিশের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক খান মামুন মনে করেন, আওলাদ হোসেন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নগরীর অপরাধ আর অভিযোগ কমিয়ে এনেছেন। আমার জানামতে তিনি কোন কিছু না বুঝে হুট করেই মামলা নেননি। সে কারনে হয়রানি কমেছে। জনসেবা বেড়েছে। খান মামুন আরও বলেন, একটি থানায় নিয়মিত অনেক অভিযোগ যায়। অভিযোগ গুরুত্বর হলে সেটির মামলা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছেন আওলাদ হোসেন। যেগুলো লঘু অভিযোগ সেগুলো স্থানীয়ভাবে মিমাংশা করেছেন। ফলে সহমর্মীতা বেড়েছে নগরীতে। মামলা চালাতে গিয়ে পরস্পরের মধ্যে পেশি শক্তির ব্যবহার কমে এসেছে।সর্বোতভাবে তিনি মনে করেন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে ভাল আছি।

কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা আ: সোহরাফ কাজী বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় আমি থানায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমার অবিযোগ গ্রহন করছিলেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত দারোগা। শেষে পরের দিন ওসির সাথে দেখা করলে তিনি সেই দারোগাকে ডেকে উষ্মা প্রকাশ করেন এবং বলেন ঘটনাটির সমাধান করতে। সোহরাফ কাজী বলেন, ওই ঘটনায় মামলা দেওয়ার প্রয়োজন পরেনি তবে সেই দারোগা দ্রুত উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংশা করিয়ে দিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

HM Helal

জনপ্রিয় সংবাদ

Facebook

ওসি আওলাদ হোসেনের বদলী আদেশে ‘ উল্লাসে রয়েছে চিহ্নিত অপরাধীরা।

প্রকাশের সময় : 02:57:26 pm, Friday, 13 July 2018

স্টাফ রিপোর্টার: বরিশালের স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ থানা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন মামুনের বদলী আদেশে থানা এলাকায় স্বস্তি ও অস্বস্তি দুটোই কাজ করছে। শান্তিপ্রিয় নাগরিকের কাছে খবরটি অস্বস্তির হলেও দারুন আনন্দে রয়েছে নিষিদ্ধ পল্লীর মানুষেরা। অপরাধপ্রবণ এলাকায় আবারও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে চিহ্নিত অপরাধীরা। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় খোঁজ-খবর নেওয়া হয়ে গেছে, আওলাদ হোসেনের পরবর্তী ওসি কে আসছেন? তিনি কোন জেলার মানুষ? আর কিভাবে পরবর্তী ওসিকে ম্যানেজ করা যাবে সেই তদ্বিরও করতে ব্যস্ত কয়েকটি চক্র। জানা গেছে, ওসি আওলাদের বদলীর সংবাদের পরপরই নগরীর পোর্টরোড কেন্দ্রীক অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনাকারী হোটেলগুলোতে বাড়তে থাকে দেহপসারীনীদের আনাগোনা।

কুখ্যাত হোটেল জোনাকীতেতো প্রকাশ্যেই শুরু করে দিয়েছিল ব্যবসা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি জোনাকীর। কোতয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে একদিনেই সেখান থেকে ৮ জনকে আটক করে। শুধু জোনাকি নয়, এমন উচ্ছাস দেখা গেছে অন্যান্য হোটেলগুলোতে। ওদিকে মাদকজোন খ্যাত কেডিসি বস্তি, রসুলপুর বস্তি, পলাশপুর-আমানতগঞ্জ, সাগরদী এলাকা, রুপাতলী, চাঁনমারী, নতুনবাজারের চিহ্নিত অপরাধীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। অপরাধীরা প্রহর গুনছেন, কখন আনুষ্ঠানিকভাবে চলে যাবেন আওলাদ হোসেন মামুন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নীতিনির্ধারনি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ওসিদের বদলী ‘রুটিন ওয়ার্ক’।

তবে আওলাদ হোসেন মামুন জানিয়েছেন, বদলী আদেশ পেয়েছেন তিনি। নির্দেশনা এলেই তার পরবর্তী নির্ধারিত কর্মস্থলে চলে যাবেন। বদলী আদেশের বিষয়ে তার পক্ষে-বিপক্ষে কোন বক্তব্য নেই। তবে নাগরিকদের অভিমত, বিগত দিনের পরিবেশ অনেকটাই বদলে ফেলেছেন এই কর্মকর্তা। ‘আওলাদ হোসেন মামুন দায়িত্ব নেওয়ার পরে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় এসে পুলিশী সেবা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ যেমন কমে এসেছে তেমনি জবাবদিহিতা বেড়েছে’ এমনটাই বলছিলেন বাংলাবাজারের বাসিন্দা মশিউর রহমান। স্কুল শিক্ষক মশিউর রহমান আরও বলেন, আমি জীবনে তিনবার থানায় জিডি করার জন্য গিয়েছিলাম।

এরমধ্যে আগের ওসির সময়ে দুবার আর এই ওসির (আওলাদ হোসেন) সময়ে একবার। আগের দুবার জিডি করতে টানা দুইদিন লেগেছে। আর টাকা দিয়েছিলাম ৮০০। কিন্তু এবার জিডি করতে গিয়ে ঘটনা বলার পরপরই জিডি গ্রহন করেন। টাকা দিতে চেয়েছিলাম। নেয়নি ওই কনস্টেবল। মশিউরের ভাষ্যমতে, ওসি সাব’ শুনতে পারলে আস্ত রাখবেন না। জানা গেছে, থানায় সেবার মান বাড়াতে অনেক অফিসারের সাথে দূরত্ব বেড়েছে আওলাদের। থানাসূত্রে জানা গেছে, বিগত দু বছরের সঠিক মনিটরিংয়ে নগরীর আলোচিত ঘটনার ক্লু উদঘাটিত হয়েছে। আবার অপরাধিদের উৎপাত কমে যাওয়ায় নিশ্চিন্তে রয়েছেন নগরবাসী। কমেছে ছিনতাই, ইভটিজিং, জিম্মি করে টাকা আদায়সহ চুরি ও প্রতারণার হার।

কমিউনিটি পুলিশের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক খান মামুন মনে করেন, আওলাদ হোসেন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নগরীর অপরাধ আর অভিযোগ কমিয়ে এনেছেন। আমার জানামতে তিনি কোন কিছু না বুঝে হুট করেই মামলা নেননি। সে কারনে হয়রানি কমেছে। জনসেবা বেড়েছে। খান মামুন আরও বলেন, একটি থানায় নিয়মিত অনেক অভিযোগ যায়। অভিযোগ গুরুত্বর হলে সেটির মামলা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছেন আওলাদ হোসেন। যেগুলো লঘু অভিযোগ সেগুলো স্থানীয়ভাবে মিমাংশা করেছেন। ফলে সহমর্মীতা বেড়েছে নগরীতে। মামলা চালাতে গিয়ে পরস্পরের মধ্যে পেশি শক্তির ব্যবহার কমে এসেছে।সর্বোতভাবে তিনি মনে করেন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্তমানে ভাল আছি।

কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা আ: সোহরাফ কাজী বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় আমি থানায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমার অবিযোগ গ্রহন করছিলেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত দারোগা। শেষে পরের দিন ওসির সাথে দেখা করলে তিনি সেই দারোগাকে ডেকে উষ্মা প্রকাশ করেন এবং বলেন ঘটনাটির সমাধান করতে। সোহরাফ কাজী বলেন, ওই ঘটনায় মামলা দেওয়ার প্রয়োজন পরেনি তবে সেই দারোগা দ্রুত উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংশা করিয়ে দিয়েছেন।