সংবাদ শিরোনাম:




এমপিপুত্র রনি ‘মাতাল’ থাকায় ‘ফাঁসি থেকে রক্ষা’!

  • Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : 05:08:57 pm, Wednesday, 30 January 2019
  • 7 সংবাদটি দেখা হয়েছে




অনলাইন ডেস্ক:আলোচিত রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলেও ঘটনার সময় মাতাল থাকায় বিশেষ বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।

 

 

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি রনিকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

রায়ে বলা হয়, আসামিকে এই হত্যা মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ধারায় তার ফাঁসির সাজা হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ঘটনার সময় আসামি রনি মাতাল থাকায় তার মানসিক অবস্থা বিবেচনায় এনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি মামলাটি রনির পক্ষে অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জানুয়ারি এ দিন ধার্য করেন আদালত।

 

 

এর আগে, গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রায়ের ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। সেদিন রায় হয়নি। তার আগে ৮ মে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে রায় ঘোষণার তারিখ বাতিল করে অধিকতর যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। পরে আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।

 

 

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটনে মদ্যপ অবস্থায় রনি নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। পরবর্তীতে হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

 

 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৪ মে মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে গ্রেফতার করে।

 

মামলাটিতে বখতিয়ার আলম রনিকে তিন দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালতে তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

 

২০১৫ সালের ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস।

 

মামলায় মোট ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত বছর ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আসামি রনি আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

 

২০১৬ সালের ৬ মার্চ মামলাটিতে এ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আদালত চার্জগঠন করেন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Facebook

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী-দেবর আটক

এমপিপুত্র রনি ‘মাতাল’ থাকায় ‘ফাঁসি থেকে রক্ষা’!

প্রকাশের সময় : 05:08:57 pm, Wednesday, 30 January 2019

অনলাইন ডেস্ক:আলোচিত রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলেও ঘটনার সময় মাতাল থাকায় বিশেষ বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।

 

 

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি রনিকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

রায়ে বলা হয়, আসামিকে এই হত্যা মামলায় ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ধারায় তার ফাঁসির সাজা হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ঘটনার সময় আসামি রনি মাতাল থাকায় তার মানসিক অবস্থা বিবেচনায় এনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

 

এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি মামলাটি রনির পক্ষে অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জানুয়ারি এ দিন ধার্য করেন আদালত।

 

 

এর আগে, গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রায়ের ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। সেদিন রায় হয়নি। তার আগে ৮ মে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে রায় ঘোষণার তারিখ বাতিল করে অধিকতর যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। পরে আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।

 

 

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটনে মদ্যপ অবস্থায় রনি নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। পরবর্তীতে হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

 

 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৪ মে মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে গ্রেফতার করে।

 

মামলাটিতে বখতিয়ার আলম রনিকে তিন দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালতে তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

 

২০১৫ সালের ২১ জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস।

 

মামলায় মোট ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত বছর ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আসামি রনি আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

 

২০১৬ সালের ৬ মার্চ মামলাটিতে এ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আদালত চার্জগঠন করেন