মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। বরং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে তেহরান যুদ্ধের কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। কয়েক বছরের গোয়েন্দা পরিকল্পনার পর এই হামলা চালানো হয়। এতে ইরানের সরকার নেতৃত্ব সংকটে পড়লেও দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিকেন্দ্রীকৃত ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ কৌশলের কারণে দেশটির সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। আলী ভায়েজ বলেন, নেতৃত্বের কিছু ক্ষতি হলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনও টিকে আছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে দুবাইয়ের তেলবাহী জাহাজ ও উপসাগরীয় স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্বের তেল আমদানিকারক দেশগুলো তাদের জরুরি মজুদ থেকে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়লেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও।
উদাহরণ হিসেবে কেনিয়ার চা ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং গুদামে চায়ের মজুত জমে যাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের মুখে পড়েছেন এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের সহজ সমাধান নেই। স্থলবাহিনী পাঠানো বা ইরানের ভেতরে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া—এই দুটি কঠিন পথই এখন ওয়াশিংটনের সামনে খোলা থাকতে পারে।
Leave a Reply