বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে এখন তৎপর জাতীয় সংসদ। বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ বসার ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে এসব অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে। সেই হিসেবে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই সংসদকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৫ মার্চ দ্বিতীয় বৈঠকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে। প্রথম বৈঠকে ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’ অনুমোদনের বিষয়ে সর্বসম্মতি হয়েছে। এছাড়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ-২০২৫’ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন জানান, কিছু অধ্যাদেশে মতভেদ থাকায় সেগুলো পরবর্তী বৈঠকের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সদস্যদের লিখিত মতামত নেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এত সংখ্যক অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ে নিষ্পত্তি করা কঠিন। তিনি জানান, একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংবিধান ও জনআকাঙ্ক্ষাকে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব অধ্যাদেশ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
অন্যদিকে বিরোধী দলের এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের পথও খোলা রাখা উচিত।
জানা গেছে, প্রথম বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, ভূমি, পরিবেশ, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সবগুলো বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করার প্রস্তাবে অধিকাংশ সদস্য সম্মত হলেও, বিরোধী দল ৩৩ থেকে ৩৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে।
সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় সংসদ ও বিশেষ কমিটির ওপর চাপ বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে এসব অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, যা আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply