বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বিদায়ী ২০২৫ সাল বাংলাদেশের জন্য ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে ২০২৬ সাল শুরু হয়েছে নতুন আশা, দায়িত্ব ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে। নতুন বছরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, যা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বোদ্ধা মহল।
২০২৫ সালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি ছিল সর্বাধিক আলোচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থান, আন্দোলন-সমাবেশ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ ও সুপারিশ সাধারণ মানুষের মনোযোগ কেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বছরজুড়েই আলোচনা হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি ছিল প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তির মূল সুর।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে নানা আশঙ্কা ও প্রত্যাশা একসঙ্গে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে। ২০২৬ সালে রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২৫ ছিল চাপ ও সম্ভাবনার মিশ্রণ। মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চাপ সৃষ্টি করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকলেও প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। সরকারের সংস্কার উদ্যোগ ও নীতিগত সমন্বয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে সহায়ক হয়েছে।
বিশেষ করে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে ভূমিকা রেখেছে। চলতি ডিসেম্বরে মাত্র ২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসা ডলার সংকট মোকাবিলায় বড় সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে গ্রস রিজার্ভ ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
সামাজিক ক্ষেত্রেও মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মান উন্নয়ন নিয়ে তরুণ সমাজের আশা প্রবল। দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ ও স্টার্টআপ সংস্কৃতি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে।
২০২৬ সাল তাই কেবল একটি নতুন ক্যালেন্ডার বছরের সূচনা নয়; এটি হতে পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিদায়ী ২০২৫-এর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায় আরও আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
Leave a Reply