বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এশিয়ার জ্বালানি বাজারে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এখন বিকল্প উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাসের দিকে নজর দিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আর্গাস মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর এশিয়ার বাজারে মার্কিন লাইট সুইট ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বর্তমানে এই তেলের দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পরিবহনের ভাড়া চার গুণের বেশি বেড়ে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ইউরোপমুখী অন্তত চারটি মার্কিন এলএনজি কার্গো ঘুরিয়ে এশিয়ার বাজারে পাঠানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর জাপানের তেল শোধনাগারগুলো জুন মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে।
তবে অন্য অনেক এশীয় দেশ এখনো উচ্চমূল্যে তেল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্গাস মিডিয়ার এশিয়া অঞ্চলের ক্রুড মূল্য বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান এনজি।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। এশিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই পথ দিয়ে যায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার ওই এলাকায় ইরানের ১৬টি মাইন বসানোর নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের মজুত জ্বালানির ওপর নির্ভর করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মজুত কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এলএনজি ঘাটতি মোকাবিলায় এশিয়ার অনেক দেশ জ্বালানি মজুত ব্যবহার, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিল্পখাতে জ্বালানি খরচ কমানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
Leave a Reply