সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষিজীবন ও জাতীয় পরিচয়ের ধারক। নতুন বছরের সূচনা মানুষকে অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এ বাণীতে তিনি দেশবাসী ও বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বৈশাখ বাংলার কৃষি ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্বেও কৃষক প্রকৃতির ছন্দ অনুসরণ করেই উৎপাদন পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা, হালখাতা এবং লোকজ উৎসবের নানা আয়োজন দেশের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। এসব আয়োজন জাতীয় ঐক্য, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। বাংলা নববর্ষ মানুষের মনে নতুন আশা, সম্ভাবনা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি।
বিশ্বব্যাপী সংঘাত ও সংকটের প্রেক্ষাপটে তিনি শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদারের আহ্বান জানান। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের হতাশা দূর করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন—বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুমত ও সম্প্রীতির চর্চা আরও শক্তিশালী হবে।
Leave a Reply