বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক ॥ পবিত্র রমজান মাসের আবহেই দীর্ঘ তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। আগামী ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের হারানো ছন্দ ফিরে পাওয়াই টাইগারদের প্রধান লক্ষ্য। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয়টি দলের মধ্যে থাকতে পারলে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে দলগুলো। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, চলতি বছরে নির্ধারিত ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ দলের জন্য বড় সুযোগ। প্রতিটি ম্যাচেই ভালো ফল করা জরুরি, কারণ র্যাঙ্কিংয়ের পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
এই সিরিজে বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞ লিটন দাস ও আফিফ হোসেনকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অফ-ফর্ম কাটিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়াই এখন লিটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দলের কোচ ফিল সিমন্স তাকে পাঁচ নম্বর পজিশনে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে উইকেটকিপিংয়ের পর কিছুটা বিশ্রাম পান।
বাংলাদেশের বোলিং বিভাগে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনদের নিয়ে গড়া আক্রমণই হবে দলের প্রধান শক্তি। অন্যদিকে পাকিস্তানও নতুনভাবে শুরু করতে চাইছে। তারা এই সিরিজে ছয়জন অনভিষিক্ত ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দলে জায়গা দিয়েছে, যার মধ্যে সাহিবজাদা ফারহান অন্যতম।
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়েও আলোচনা চলছে। অতীতে স্পিনারদের আধিপত্য থাকলেও এবার উইকেটের মান কিছুটা উন্নত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোচরা। তবে আবহাওয়া অফিস বিকেলে অকালবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ৩–০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়; শেষ পাঁচ সিরিজের মধ্যে চারটিতেই হারতে হয়েছে তাদের। এমনকি আফগানিস্তানের কাছেও দেশের মাটিতে দুটি সিরিজ হেরেছে টাইগাররা।
এই পরিস্থিতি কাটিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় করতে পারলে তা হবে ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসী পদযাত্রার বড় সূচনা।
Leave a Reply