সন্ধ্যায় দখল সন্ত্রাস, নাব্যতা হ্রাসে লঞ্চ চলাচল বন্ধ Latest Update News of Bangladesh

শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
Latest Update Bangla News 24/7 আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ভয়েস অব বরিশালকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] অথবা [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।*** প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে!! বরিশাল বিভাগের সমস্ত জেলা,উপজেলা,বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড ও ক্যাম্পাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! ফোন: ০১৭৬৩৬৫৩২৮৩




সন্ধ্যায় দখল সন্ত্রাস, নাব্যতা হ্রাসে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

সন্ধ্যায় দখল সন্ত্রাস, নাব্যতা হ্রাসে লঞ্চ চলাচল বন্ধ




আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি:  বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার এক সময়ে খরগ্রোত পয়সারহাট সন্ধ্যা নদী ক্ষমতাসীন দখলদারদের দাপটে আজ যেন বিবর্ন। সৌন্দার্য্য হারানোর পাশাপাশি হারিয়ে গেছে খরগ্রোত ও নাব্যতা। নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে গত তিন বছর যাবত ঢাকা-পয়সারহাট নৌ রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সন্ধ্যা নদীর পয়সারহাট বন্দর ও পয়সারহাট সেতুর দুই পাশেই ক্ষমতাসীন সরকারী দলের প্রভাবশালী অবৈধ দখলদাররা নির্মান করেছেন পাকা স্থাপনাসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। নদী দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নদী কমিশন ১ মার্চের মধ্যে নদী দখলদারদের তালিকা তৈরীর জন্য নির্দেশনা থাকলেও এখনও সন্ধ্যা নদী দখলদারদের তালিকা সম্পন্ন করতে পারেনি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় প্রর্যায়ের লোকজন, দখলদার ও সংশি¬ষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশালের সন্ধ্যা নদীর আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট এলাকায় শত বছর পূর্বে গড়ে উঠে বরিশালের বৃহত ব্যবসায়ী বন্দর। নদীর তীর ঘেষে দুই পাড়ে এখানে প্রায় সহগ্রাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে পয়সারহাট-ঢাকা রুটে চারটি বড় লঞ্চ চলাচল করে আসছিল। নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় গত তিন বছর ধরে ঢাকা-পয়সারহাট লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে পয়সারহাট বন্দরের সহগ্রধিক ব্যবসায়ী। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এক সময় সন্ধ্য নদী খুবই খরগ্রোত ছিল। নদীটি প্রায় ১২ থেকে ১৪শ ফুট প্রশস্থ ছিল। আশপাশে যতগুলো নদী রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী গভীর ছিল সন্ধ্যার পয়সারহাট এলাকা।

এ নদীকে ঘিরেই পয়সারহাট ব্যবসায়ী বন্দর জমে উঠেছিল। এ বন্দরটি দক্ষিনাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী বন্দর। বর্তমানে সন্ধ্যা নদীর পয়সারহাট এলাকার প্রশস্থতা সংকুচিত হয়ে গেছে। নদীর প্রশস্থতা ২ থেকে আড়াইশ ফুট। নৌ পথের পাশাপাশি সড়ক পথে ব্যবসায়ীদের সুবিধ্যার্থে বিগত শাসন আমলে আওয়ামীলীগ সরকার ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থ বছরে পয়সারহাট নদীতে সেতু নির্মানের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৮টি পিলারে ২৬০ দশমিক ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মান প্রকল্প গ্রহন করেন।

যা বাস্তবায়নে ব্যায় হয় ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির উদ্বোধন করেন। সেতুটি নির্মানের ফলে এখানে প্রতিদিন বিকেলে নদীর সৌন্দার্য্য উপভোগ করতে সৌন্দার্য্য পিপাসু হাজার হাজার মানুষ সেতুতে জড়ো হন। প্রভাবশালীদের দখলের কারনে নদীটি আজ সৌন্দার্য্য হারিয়েছে। হারিয়েছে নদীর স্বাভাবিক গতি পথ। কিছুু প্রভাবশালীরা নদী ভরাট করে গড়ে তুলেছেন পাকা স্থাপনা, স্ব-মিল, ইট বালুর ব্যবসার মাঠ।

দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন, আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল বাশার ওরফে বাদশা হাওলাদার (৬৫), বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গাউস বক্তিয়ার (৬৩), বাগধা ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর জব্বার তালুকদার, আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য জেবারুল খান (৪৮), আওয়ামীলীগ সমর্থক আবুল সিকদার (৫৫) তার পুত্র কাওছার হোসেন (৩৫), পূর্ব পয়সারহাট গ্রামের মোবারক বক্তিয়ারের ছেলে বাদশা বক্তিয়ার (৪৮), মোনাসেফ হোসেন (৪৫) ও বি,এম সালাউদ্দিন (৩২)।

এ ছাড়াও বাগধা বাজারসহ নদীর বিভিন্ন স্থানে আরো ১০/১২ জন প্রভাবশালী নদী দখল করেছে বলে এলাকাবাসী জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খরগ্রোত সন্ধ্যা নদী তার গৌরব হারিয়েছে। নদীর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে দখল করায় দিন দিন নদীটি ছোট হয়ে আসছে।

সেতুর গোড়ায় পশ্চিম পাশে বিশাল চর জেগেছে। নদীটি সংকুচিত হয়ে প্রশস্থতা কমে গেছে। সন্ধ্যা নদীর পয়সারহাট সেতুর পূর্ব পাশে গোড়ায় আনুমানিক ১শত ৩০ শতাংশ নদীর পাড় বালু দিয়ে ভরাট ভোগ দখল করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য জেবারুল খান (৪৮) তার দক্ষিন পাশে নদীর জমি ভরাট করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন পয়সারহাট গ্রামের আব্দুল শাহ বক্তিয়ারের ছেলে ও বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গাউস বক্তিয়ার (৬৩)। তার দক্ষিন পাশে নদীর পাড় ভরাট করেছেন আওয়ামীলীগ সদস্য ও পয়সারহাট গ্রামের মৃত জেন্নাত আলী সিকদারের ছেলে আবুল সিকদার (৫৫)।

সেতুর উত্তর পাশে নদীর পাড়ে বাঁধ দিয়ে বালু ভরাট কাজ করেছেন দখলদার আবুল হোসেন সিকদারের পুত্র ও আওয়ামীলীগ সদস্য কাওছার হোসেন সিকদার (৩৫)। পুরান খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে নদী দখল করে ঘর তুলে হোটেল ব্যবসা করছেন পয়সারহাট গ্রামের মৃত সাত্তার বক্তিয়ারের ছেলে বি. এম সালাউদ্দিন (৩২)। এ ছাড়া নদীর পশ্চিম পাড়ে পয়সারহাট বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালের পিছনে নদীর মধ্যে বহুতল পাকা ভবন নির্মান করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল বাশার ওরফে বাদশা হাওলাদার।

সন্ধ্যা নদীর বাগধা বাজার এলাকায় নদীর মধ্যে পাকা ভবন নির্মান করেছেন একাধিক প্রভাবশালী। এ সময় পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার(৫৮), মেহেদী হাসান (৪২) বলেন, নদী দখলের ফলে দিন দিন নদী সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এক সময় এখানে বড় বড় লঞ্চ চলত। গত তিন বছর ধরে এখানে লঞ্চ আসে না।

উজিরপুরের বৈঠাঘাটা টার্মিনালে লঞ্চ ভিরে সেখান থেকে ট্রলারযোগে মালামাল পয়সারহাট বন্দরে আনতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দখলদারদের বিরুদ্ধে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, দখলের কারনে নদীটি দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা সত্বেও কোন ব্যবস্থা নেননি।

বাকাল ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, নদীকে ঘিরেই শত বছররের পয়সারহাট বন্দরের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা জমে উঠেছে। বর্তমানে নদীর নাব্যতা হারানোর কারনে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নদীটি খনন করে ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে সন্ধ্যা নদীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি স্থানীয় সাংসদ আবুল হাসানাত আবদুল¬াহ সহ সরকারের কাছে দাবি জানান।

পয়সারহাট বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক চকিদার বলেন, দখল ও নাব্যতার কারনে নদীটি মরে যাওয়ায় আমরা ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। ঘাটে লঞ্চ না আসায় ট্রলারে করে বৈঠাঘাটা থেকে মালামাল পরিবহনে প্রতিদিন ব্যবসায়ী লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গাউস বক্তিয়ার বলেন, আমি নদীর জায়গা দখল করিনি।

আমার জমি ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হওয়ায় তা ভরাট করেছি। আবুল হোসেন সিকদার তার ছেলে কাওছার হোসেন সিকদার, পয়সারহাট গ্রামের বাদশা বক্তিয়ার, জব্বার তালুকদার, মোনাসেফ হোসেন নদী দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা নদীর জমি দখল করিনি, ক্রয়সূত্রে রেকর্ডিয় জমি ভোগ দখল করেছি। জেবারুল খান দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ১শত শতাংশ জমির রেকর্ডিয় মালিক। নদীর কিছু জমি ভরাট হয়ে থাকতে পারে। তবে নদী ভরাট করে দখল আমি করিনি। যাদের কাছে জমি লিজ দিয়েছি তারা নদী ভরাট করে থাকতে পারে।

আবুল বাশার ওরফে বাদশা হাওলাদারের কাছে পাকা বহুতল ভবন নির্মান সম্পর্কে জানতে চাইলে ভবন নির্মানের কথা স্বীকার করে বলেন, নদীর জায়গা নয়, নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মান করেছি। সরকার পরিমাপ করে নদীর জায়গা প্রমান করতে পারলে যে কোন সিদ্ধান্ত মেনে নিবো। বি, এম সালাউদ্দিন দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দোকান ঘর নির্মান করে ব্যবসা করছি এতে নদীর কোন ক্ষতি হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল দাস বলেন, দখলদাররা কেউ কেউ জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করার চেষ্টা করেন। আমি উপজেলা সেটেলম্যান কর্মকর্তাকে রেডর্ক না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। তার পরেও কেউ কেউ রেকর্ড নিয়েছে।

নদী দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাই। এ প্রসঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা হাতে পেয়েছি। যে কোন নদী পরিমাপ করে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নদী দখলদারদের তালিকা করা সঠিক হবে না। নদী পরিমাপ করা খুবই দূরুহ ব্যাপার।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা ভূমি অফিসের সমন্বয় দরকার। সংশি¬ষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে সন্ধ্যা নদী পরিমাপ করে দখলদারদের তালিকা প্রনয়ন করা হবে এবং পর্যায় ক্রমে উচ্ছেদ করে নদী দখলমুক্ত করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *










Facebook

Shares
© ভয়েস অব বরিশাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed BY: AMS IT BD
Shares